পাতা:ভ্রান্তিবিলাস.djvu/১১৫

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
১১৩
পঞ্চম পরিচ্ছেদ।

তাঁহার কিছুমাত্র আপত্তি নাই। এই পরিণয়প্রসঙ্গ শ্রবণে নিরতিশয় পরিতোষ প্রদর্শন করিয়া, অধিরাজ বিজয়বল্লভ প্রীতিপ্রফুল্ল লোচনে কহিলেন, শুভ কার্য্য়ে বিলম্বে প্রয়োজন নাই; চিরঞ্জীব! বিলাসিনী কল্য তোমার সহধর্মিণী হইবেন।

 অনন্তর, বসুপ্রিয় স্বর্ণকার হেমকূটবাসী চিরঞ্জীবকে জিজ্ঞাসিলেন, আমি আপনাকে যে হার দিয়াছিলাম, আপনার গলায় এ সেই হার কি না। তিনি কহিলেন, এ সেই হার বটে; আমি এক বারও তাহা অস্বীকার করি নাই। তখন জয়স্থলবাসী চিরঞ্জীব স্বর্ণকারকে কহিলেন, তুমি কিন্তু এই হারের জন্যে আমায় অবরুদ্ধ করাইয়াছিলে। বসুপ্রিয় লজ্জিত হইয়া কহিলেন, হাঁ মহাশয়! আমি আপনারে রাজপুরুষের হস্তে সমর্পণ করিয়াছিলাম। কিন্তু, পূর্ব্বাপর বিবেচনা করিয়া দেখিলে, আপনি আমায় অপরাধী করিতে পারেন না। চন্দ্রপ্রভা স্বীয় পতিকে জিজ্ঞাসিলেন, তোমার অবরোধের সংবাদ পাইয়া, কিঙ্কর দ্বারা যে স্বর্ণমুদ্রা পাঠাইয়াছিলাম, তুমি কি তাহা পাও নাই। জয়স্থলবাসী কিঙ্কর কহিল, কই আপনি আমা দ্বারা স্বর্ণমুদ্রা পাঠান নাই। তখন হেমকূটবাসী চিরঞ্জীব কহিলেন, আমি কিঙ্করকে জাহাজের অনুসন্ধানে পাঠাইয়া, পান্থনিবাসে বসিয়া, উৎসুক চিত্তে তাহার প্রত্যাগমন প্রতীক্ষা করিতেছি, এমন সময়ে সে আসিয়া, তোমার প্রেরিত বলিয়া, আমার হস্তে এই স্বর্ণমুদ্রার থলী দেয়; আমি, কিছুই বুঝিতে না পারিয়া, আপন নিকটে রাখিয়াছিলাম।