তখন খোকার মা বললেন, ‘যাক বাবা, ভগবান খুব বাঁচিয়েছেন। আরেকটু এপাশে ওরা যেখানে দাঁড়িয়েছিল সেখানটা যদি ভেঙ্গে পড়ত!’
নাগা বলল, ‘তা পড়ত না, বড়-মা।’
খানিক আগে নাগা তার মেয়েকে নদী থেকে তুলেছে, তবু খোকার মা একটু বিরক্ত হয়ে বললেন, ‘তুই কি করে জানলি পড়ত না।’
নাগা বলল, ‘তলায় ক্ষয় যায় নাই, ভাইঙ্গা পড়ব ক্যান? ভাঙ্গবো, কয়দিন পরে নিয্যস ভাঙ্গবো, অখন ভাঙ্গবো না। ভাঙ্গবোই যদি, আমাগো খোকাবাবু আর খুকীরে যাইতে দিতাম ভাবছেন? দিতাম না।’
কণিকা বলল, ‘আমাকে তুই খুকী বলিস কেনরে নাগা? বারণ করে দিইনি তোকে?’
‘কি কমু, তবে?’
‘দিদিমণি বলবি।’
‘দিদিমণি? দিদিমণি?’—ডাকটা নাগার পছন্দ হল না। একটু সে অপমান বোধ করতে লাগল। চাকরেরা বাড়ির মেয়েদের দিদিমণি বলে— বড় মেয়েদের। সে তো চাকর নয়, নৌকার মাঝি। তাছাড়া বার তের বছরের একটা মেয়েকে কি দিদিমণি বলে ডাকা যায়? একটু রাগ করেই নাগা সেখান থেকে চলে গেল, মনে মনে ঠিক করে রাখল, যে যতই রাগ করুক কণিকাকে সে দিদিমণি বলে ডাকবে না।
সেই থেকে নাগার সঙ্গে তিনি ছেলেমেয়েদের কোথাও যেতে দেন না। ওদের একেবারে কোথাও না যেতে দিতে পারলেই তিনি খুশী হতেন, কিন্তু ওরা তা শুনবে কেন! নাগাকে তিনি তাই খুব খাতির করেন, আর বার বার মনে করিয়ে দেন, ‘ওদের দেখিস বাবা, সামলে রাখিস।’
যাদববাবুর স্ত্রীকে নাগা ঠিক বুঝতে পারে না, কিন্তু এ বাড়িতে একমাত্র তাকেই বোধ হয় সে ভয় করে। শরীরটা তাঁর ভাল নয়, দু’এক ঘণ্টা সংসার দেখাশোনা করে তিনি বিছানায় শুয়ে পড়েন, দু’এক ঘণ্টা পরে আবার ওঠেন। বিছানা থেকে ওঠা-নামা করে তাঁর দিন কাটে, তবু সংসারের সমস্ত ব্যবস্থাই তিনি করেন। মানুষকে দিয়ে কাজ করিয়ে নেবার একটা আশ্চর্য ক্ষমতা তাঁর আছে। নাগাও তার অনেক ফরমাশ