পাতা:মুর্শিদাবাদ কাহিনী.djvu/১৫৬

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।
১৫০
মুর্শিদাবাদ-কাহিনী

 আলিবর্দীর সমাধির পশ্চিম দিকে আরও দুইটি সমাধি আছে। সাধারণলোকে ঐ দুইটিকে আলিবর্দীর কন্যাদ্বয়ের সমাধি বলিয়া থাকে। আমরা জানি যে, তাহার দুই কন্যা ঘসেটী ও আমিনা, মীরণের আদেশে নদীগর্ভে প্রাণ বিসর্জন দেন; সুতরাং তাহাদের সমাধি হওয়ার কোনই সম্ভাবনা নাই। তাহার মধ্যমা কন্যা ময়মানা পূণিয়ার নবাব সৈয়দ আহম্মদের পত্নী ও সওকতজঙ্গের মাতা ছিলেন। তিনি পূর্ণিয়াতেই বাস করিতেন। মীরজাফর পূর্ণিয়া অধিকার করিলে, তিনি মুর্শিদাবাদে আসিয়া বাস করিয়াছিলেন কিনা, জানা যায় না। ফলতঃ উক্ত সমাধি দুইটি আলিবর্দী খাঁর কন্যাদ্বয়ের না হইলেও, তাহার পরিবার অন্য কাহারও হইতে পারে।

 সমাধিগৃহের পশ্চিমে, পশ্চিম চত্বরের প্রান্তভাগে, একটি মসৃজেদ বিরাজ করিতেছে। অদ্যাপি তথায় উপাসনাদি হইয়া থাকে। মসজেদের সম্মুখে একটি প্রকাণ্ড চৌবাচ্চা রহিয়াছে। এই সমাধিভবনে পূর্বে কারী বা কোরাণাধ্যায়ীদিগের বাসস্থান ছিল; অনেক দিন হইল, সে-সমস্ত গৃহ ভূমিসাৎ করা হইয়াছে। অদ্যাপি তৎসমুদায়ের ভিত্তিভূমির চিহ্ন দেখিতে পাওয়া যায়। এই সমাধিভবনের দক্ষিণে একটি আম্র, বাদাম প্রভৃতি বৃক্ষের বাগান আছে। তথায় একটি প্রকাণ্ড ইন্দারা, একটি শুষ্ক পুষ্করিণী ও তাহার বাঁধাঘাটের ভগ্নাবশেষ দৃষ্ট হয়; পূর্বে এইখানে মোসাফেরখানা ছিল, তাহার চিহ্নও দেখা যায়। পূর্বে সমাধিভবন যেরূপ বিস্তৃত ছিল, এক্ষণে তাহার আয়তন কিয়ৎ-পরিমাণে হ্রাস করা হইয়াছে। ইতস্ততঃ বিক্ষিপ্ত ইষ্টকরাশি আজিও তাহার পূর্ব আয়তনের পরিচয় দিতেছে।

 আলিবর্দী খাঁ এই খোশ্‌বাগের সৃষ্টি করেন। প্রথমে তাহার জননী খোশ্‌বাগে সমাহিত হইয়াছিলেন। আলিবর্দী ভাণ্ডারদহ ও নবাবগঞ্জ প্রভৃতি স্থানের আয় হইতে এই সমাধিভবনের ব্যয়নির্বাহের জন্য মাসিক ৩০৫ টাকা বন্দোবস্ত করিয়া দেন। সিরাজের মৃত্যুর পর লুৎফ উন্নেসার প্রতি খোশ্‌বাগের তত্ত্বাবধানের ভার অপত হয়। তাহার হস্তে পাটনাস্থিত আলিবর্দীর ভ্রাতা হাজী মহম্মদের সমাধির ভারও অপিত হইয়াছিল। লুৎফ উন্নেসার জীবিতকালেই তাহার কন্যা উম্মত জহুরার মৃত্যু হয়। সেইজন্য লুৎফ উন্নেসার মৃত্যুর পর উম্মত জহুরার চারি কন্যা শরীফন্নেসা, আসম্মতন্নেসা, সাকিনী ও উম্মতুলা মেহেদী বেগম খোশ্‌বাগ প্রভৃতির তত্ত্বাবধানের জন্য ওয়ারেন হেস্টিংসের নিকট প্রার্থনা করিয়াছিলেন। লর্ড কর্নওয়ালিস তাহাদিগকে উক্ত ভার প্রদান করেন। তাহাদের মৃত্যু হইলে, উক্ত বংশীয়েরী খোশ্‌বাগের তত্ত্বাবধানের ভার পাইয়াছিলেন। ১৮৪৫ খ্রীস্টাব্দে সাকিনার জ্যেষ্ঠা কন্যা খয়েরুন্নেসার কনা জীনা বেগম ও তাহার কনিষ্ঠা কন্যা ফতেমার পুত্র মহম্মদ আলি খাঁ এবং উম্মত জায়েনা ও উম্মত কোলসুম বেগম নামে উক্ত বংশীয় আরও দুই জন মহিল৷ এই চারি জন খোশ্‌বাগের মাতোয়ালী নিযুত হইয়াছিলেন। জমে উক্ত বংশীয়গণের হস্ত হইতে গবর্নমেন্ট স্বয়ং সে ভার গ্রহণ করেন। পূর্বে খোশ্‌বাগর সমাধিভবন রৌপ্য ও স্বর্ণময় পুষ্পখচিত কৃষ্ণবর্ণ বন্ধের দ্বারা আচ্ছাদিত