পাতা:য়ুরোপ-যাত্রীর ডায়ারি-রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর.pdf/২৬৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

প্রাথমিক সংকলন

শ্রীমতী মৃণালিনী দেবীকে লিখিত পত্র

আজ আমরা এডেন বলে এক জায়গায় পৌঁছব। অনেক দিন পরে ডাঙা পাওয়া যাবে। কিন্তু সেখানে নাবতে পারব না, পাছে সেখান থেকে কোনাে রকম ছোঁয়াচে ব্যামাে নিয়ে আসি। এডেনে পৌঁছে আর-একটা জাহাজে বদল করতে হবে, সেই একটা মহা হাঙ্গাম রয়েছে। এবারে সমুদ্রে আমার যে অসুখটা করেছিল সে আর কী বলব— তিন দিন ধরে যা একটু কিছু মুখে দিয়েছি অমনি তখনি বমি করে ফেলেছি— মাথা ঘুরে গা ঘুরে অস্থির— বিছানা ছেড়ে উঠি নি—কী করে বেঁচে ছিলুম তাই ভাবি। রবিবার দিন রাত্রে আমার ঠিক মনে হল আমার আত্মাটা শরীর ছেড়ে বেরিয়ে জোড়াসাঁকোয় গেছে। একটা বড়াে খাটে এক ধারে তুমি শুয়ে রয়েছ আর তােমার পাশে বেলি খোকা শুয়ে। আমি তােমাকে একটু আধটু আদর করলুম আর বললুম, ছােটোবউ, মনে রেখো আজ রবিবার রাত্তিরে শরীর ছেড়ে বেরিয়ে তােমার সঙ্গে দেখা করে গেলুম— বিলেত থেকে ফিরে গিয়ে জিজ্ঞাসা করব তুমি আমাকে দেখতে পেয়েছিলে কি না। তার পরে বেলি খোকাকে হাম দিয়ে ফিরে চলে এলুম। যখন ব্যামাে নিয়ে পড়ে ছিলুম তােমরা আমাকে মনে করতে কি? তােমাদের কাছে ফেরবার জন্যে ভারী মন ছট্‌ফট্ করত। আজকাল কেবল মনে হয় বাড়ির মতাে এমন জায়গা আর নেই— এবারে বাড়ি ফিরে গিয়ে আর কোথাও নড়ব না। আজ এক হপ্তা বাদে প্রথম স্নান করেছি। কিন্তু স্নান করে কোনাে সুখ নেই— সমুজের নােনা জলে নেয়ে সমস্ত গা চট্‌চট্‌ করে মাথার চুলগুলাে এক রকম বিশ্রী আটা হয়ে জটা পাকিয়ে যায়— পা কেমন

২৪৯