পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (অষ্টম খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/২৮৭

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।

ঘরে-বাইরে ২৭৩ পক্ষে শক্ত, অথচ মুখের কথা একেবারে অন্য জাতের । আসল কথা, এই সংসারে বুড়ে। থাজাঞ্চি যে কতখানি সত্য তা ও একেবারে দেখতে পাচ্ছে না, সেখানে যেন ফাকা আকাশ । সেই আকাশে প্রাণ নেই, ব্যথা নেই, কেবল শ্লোক আছে, ন হন্যতে হস্যমানে শরীরে । আমি বললুম, বল কী অমূল্য। আমাদের রায়মশায়ের যে স্ত্রী আছে, ছেলেমেয়ে আছে—তার যে— স্ত্রী নেই, ছেলেমেয়ে নেই এমন মানুষ এ-দেশে পাব কোথায় ? দেখুন আমরা যাকে দয়া বলি লে কেবল নিজের পরেই দয়া,–পাছে নিজের দুর্বল মনে ব্যথা লাগে সেই জন্তেই অশ্বকে আঘাত করতে পারি নে—এই তো হল কাপুরুষতার চূড়ান্ত ! সন্দীপের মুখের বুলি বালকের মুখে শুনে বুক কেঁপে উঠল। ও যে নিতাস্ত কঁচি, ভালোকে ভালো বলে বিশ্বাস করবারই যে ওর সময় । আহা ওর যে বাচবার বয়েস, বfড়বার বয়েস । আমার ভিতরে মা জেগে উঠল যে । নিজের দিক থেকে আমার ভালোও ছিল না মনও ছিল না, ছিল কেবল মরণ, মধুর রূপ ধরে ; কিন্তু যখন এই আঠারো বছরের ছেলে এমন অনায়াসে মনে করতে পারলে এক জন বুড়োমানুষকে বিনা দোষে মেরে ফেলাই ধর্ম তখন আমার গা শিউরে উঠল। যখন দেখতে পেলুম ওর মনে পাপ নেই তখন ওর এই কথার পাপ বড়ো ভয়ংকর হয়ে আমার কাছে দেখা দিলে। যেন বাপমায়ের অপরাধকে কচি ছেলের মধ্যে দেখতে পেলুম। বিশ্বাসে উৎসাহে ভরা বড়ো বড়ো ওই দুটি সবল চোখের দিকে চেয়ে আমার প্রাণের ভিতর কেমন করতে লাগল। অজগর সাপের মুখের মধ্যে ঢুকতে চলেছে, একে কে বাচাবে ? আমার দেশ কেন সত্যিকার মা হয়ে উঠে দাড়িয়ে এই ছেলেটিকে বুকে চেপে ধরছে না ? কেন একে বলছে না, ওরে বাছা আমাকে তুই বঁচিয়ে কী করবি, তোকে যদি বাচাতে না পারলুম। জানি জানি, পৃথিবীর বড়ো বড়ো প্রতাপ শয়তানের সঙ্গে রফ করে বেড়ে উঠেছে, কিন্তু মা যে আছে একলা দাড়িয়ে এই শয়তানের সমৃদ্ধিকে তুচ্ছ করবার জন্যে । মা তো কার্যসিদ্ধি চায় না, সে-সিদ্ধি যতবড়ো সিদ্ধিই হ’ক, মা যে বাচাতে চায়। আজ আমার সমস্ত প্রাণ চাচ্ছে এই ছেলেটিকে দুই হাতে টেনে ধরে বাচাঁবার জন্তে । কিছু আগেই ওকে ডাকাতি করতে বলেছিলুম, এখন যতবড়ো উলটো কথাই বলি সেটাকে ও মেয়েমানুষের দুর্বলতা বলে হাসবে। মেয়েমানুষের দুর্বলতাকে ওরা তখনই মাথা পেতে নেয় যখন সে পৃথিবী মজাতে বসে। به نا-س-br