পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (অষ্টম খণ্ড) - সুলভ বিশ্বভারতী.pdf/২৩

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


মহুয়া কে বাধে শিথিল বীণার তন্ত্র কঠোর যতন-ভরে— ঝংকারি উঠে। অপরিচিতার জয়সংগীতস্বরে । নগ্ন শিমুলে কার ভাণ্ডার রক্ত দুকুল দিল উপহার, দ্বিধা না রহিল বকুলের আর রিক্ত হবার তরে । দেখিতে দেখিতে কী হতে কী হল শূন্য কে দিল ভরি । প্ৰাণবন্যায় উঠিল ফেনায়ে মাধুরীর মঞ্জরী । ফাগুনের আলো সোনার কাঠিতে কী মায়া লাগালো, তাই তো মাটিতে নবজীবনের বিপুল ব্যথায় জাগে শ্যামাসুন্দরী । [শান্তিনিকেতন] দোলপূর্ণিমা [২২ ফাল্লুন] ১৩৩৪ ওগো বসন্ত, হে ভুবনজয়ী, বাজে বাণী তব “মাভৈঃ মাভৈঃ', বন্দীরা পেল ছাড়া । দিগন্ত হতে শুনি তব সুর কারাগারে দিল নাড়া ! জীবনের রণে নব অভিযানে ছুটিতে হবে- যে নবীনেরা জানে, দলে দলে আসে আমের মুকুল বনে বনে দেয় সাড়া । কিশলয়দল হল চঞ্চল, উতল প্ৰাণের কলকোলাহল শাখায় শাখায় উঠে । মুক্তির গানে কঁপে চারি ধার, কানা দানবের মানা-দেওয়া দ্বার আজ গেল সব টুটে ।