পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (অষ্টম খণ্ড) - সুলভ বিশ্বভারতী.pdf/২৯৩

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


পুনশ্চ Sዒ¢ নির্মল বুদ্ধির চেহারা ঝক ঝক করছে যেন । সুকুমার কপাল থেকে চুল উপরে তোলা, উজ্জ্বল চোখের দৃষ্টি নিঃসংকোচ । মনে ভাবি একটা কোনো সংকট দেখা দেয় না কেন, উদ্ধার করে জন্ম সার্থক করিা রাস্তার মধ্যে একটা কোনো উৎপাত, কোনো-একজন গুণ্ডার সম্পধাঁ । এমন তো আজকাল ঘটেই থাকে । কিন্তু আমার ভাগ্যটা যেন ঘোলা জলের ডোবা, বড়ো রকম ইতিহাস ধরে না তার মধ্যে, নিরীহ দিনগুলো ব্যাঙের মতো একঘেয়ে ডাকেনা। সেখানে হাঙর-কুমিরের নিমন্ত্রণ, না রাজহঁসের । একদিন ছিল ঠেলা ঠেলি ভিড় । কমলার পাশে বসেছে। একজন আধা-ইংরেজ । ইচ্ছে করছিল, অকারণে টুপিটা উড়িয়ে দিই তার মাথা থেকে, ঘাড়ে ধরে তাকে রাস্তায় দিই নামিয়ে । কোনো ছুতো পাই নে, হাত নিশপিশ করে । এমন সময়ে সে এক মোটা চুরোট ধরিয়ে টানতে করলে শুরু । কাছে এসে বললুম, “ফেলো চুরোট ।” যেন পেলেই না শুনতে, ধোওয়া ওড়াতে লাগল বেশ ঘোরালো করে । মুখ থেকে টেনে ফেলে দিলেম চুরোট রাস্তায় । হাতে মুঠো পাকিয়ে একবার তাকালো কটুমটু করেআর কিছু বললে না, এক লাফে নেমে গেল । বোধ হয়। আমাকে চেনে । আমার নাম আছে ফুটবল খেলায়, বেশ একটু চওড়া গোছের নাম । বই খুলে মাথা নিচু করে ভান করলে পড়বার । হাত কঁাপিতে লাগল, কটাক্ষেও তাকালে না। বীরপুরুষের দিকে । আপিসের বাবুরা বললে, “বেশ করেছেন মশায় ।” একটা ট্যাক্সি নিয়ে গেল চলে । পরদিন তাকে দেখলুম না, তার পরদিনও না, তৃতীয় দিনে দেখি একটা ঠেলাগাড়িতে চলেছে কলেজে ।