পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (অষ্টম খণ্ড) - সুলভ বিশ্বভারতী.pdf/২৯৪

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


SAVe রবীন্দ্ৰ-রচনাবলী বুঝলুম, ভুল করেছি গোয়ারের মতো । ও মেয়ে নিজের দায় নিজেই পারে নিতে, আমাকে কোনো দরকারীই ছিল না । আবার বললুম মনে মনে, ভাগ্যটা ঘোলা জলের ডোবাবীরত্বের স্মৃতি মনের মধ্যে কেবলই আজ আওয়াজ করছে কোলব্যাঙের ঠাটার মতো । ঠিক করলুম ভুল শোধরাতে হবে । খবর পেয়েছি। গরমের ছুটিতে ওরা যায় দার্জিলিঙে । সেবার আমারও হাওয়া বদলাবার জরুরি দরকার । ওদের ছোট বাসা, নাম দিয়েছে মতিয়ারাস্তা থেকে একটু নেমে এক কোণে গাছের আড়ালে, সামনে বরফের পাহাড় । শোনা গেল আসবে না। এবার । ফিরব মনে করছি এমন সময়ে আমার এক ভক্তের সঙ্গে দেখা, CNड2न्मeनlaाরোগা মানুষটি, লম্বা, চোখে চশমা, দুর্বল পাকযন্ত্র দাৰ্জিলিঙের হাওয়ায় একটু উৎসাহ পায় । সে বললে, “তনুকা আমার বোন, কিছুতে ছাড়বে না তোমার সঙ্গে দেখা না করে ।” দেহ যতটুকু না হলে নয় ততটুকুযতটা পড়াশোনায় ঝোক, আহারে ততটা নয় । ফুটবলের সর্দারের পরে তাই এত অদ্ভুত ভক্তিমনে করলে আলাপ করতে এসেছি সে আমার দুর্লভ দয়া । হয় রে ভাগ্যের খেলা ! যেদিন নেমে আসব তার দুদিন আগে তনুকা বললে, “একটি জিনিস দেব আপনাকে, যাতে মনে থাকবে আমাদের কথা একটি ফুলের গাছ ।” এ এক উৎপাত । চুপ করে রইলেম । তনুকা বললে, “দামি দুর্লভ গাছ, এ দেশের মাটিতে অনেক যত্নে বঁাচে ।” জিগেস করলেম, নামটা কী ?” সে বললে, “ক্যামেলিয়া” । DONK.5 erseআর-একটা নাম ঝলক দিয়ে উঠল মনের অন্ধকারে । সহজে বুঝি। এর মন মেলে না ।”