পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (অষ্টম খণ্ড) - সুলভ বিশ্বভারতী.pdf/৩১৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


পুনশ্চ, আবার দিন যায়, বৎসর যায় । প্ৰাণের কান্না থামে না । আরো কী চাই । প্ৰাণ জোড়হাত করে বলে : মাটির দূত আসে, নির্মম হাতে কণ্ঠযন্ত্রে কুলুপ লাগায়বলে “কণ্ঠনালী আমার” । শুনে আমি বলি, মাটির বঁাশিখানি তোমার বটে, কিন্তু বাণী তো তোমার নয় । উপেক্ষা করে সে হাসে । শোনো আমার ক্ৰন্দন, হে বিশ্ববাণী, জয়ী হবে কি জড়মাটির অহংকারসেই অন্ধ সেই মুক তোমার বাণীর উপর কি চাপা দেবে চিরমুকত্ব, যে বাণী অমৃতের বাহন তার বুকের উপর স্থাপন করবে জড়ের জয়স্তম্ভ ? শোনা গেল আকাশ থেকে : उ2 (नये । আশীৰ্বাদ এই আমার, সার্থক হবে মনের সাধনা ; জীর্ণকণ্ঠ মিশবে মাটিতে, চিরজীবী কণ্ঠস্বর বহন করবে বাণী । মাটির দানব মাটির রথে যাকে হরণ করে চলেছিল মনের রথ সেই নিরুদেশ বাণীকে আনলে ফিরিয়ে কণ্ঠাহীন গানে । জয়ধ্বনি উঠল মর্তলোকে । দেহমুক্ত রূপের সঙ্গে যুগলমিলন হল দেহমুক্ত বাণীর প্ৰাণতরঙ্গিণীর তীরে, দেহনিকেতনের প্রাঙ্গণে । [ ৩ পৌষ ১৩৩৯ ] ১৮ ডিসেম্বর ১৯৩২ রামানন্দ পেলেন গুরুর পদ সারাদিন তার কাটে জপে তপে, সন্ধ্যাবেলায় ঠাকুরকে ভোজ্য করেন নিবেদন, তার পরে ভাঙে তার উপবাস যখন অন্তরে পান ঠাকুরের প্রসাদ । সেদিন মন্দিরে উৎসব রাজা এলেন, রানী এলেন, এলেন পণ্ডিতেরা দূর দূর থেকে, এলেন নানাচিহ্নধারী নানা সম্প্রদায়ের ভক্তদল ৷