পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (অষ্টম খণ্ড) - সুলভ বিশ্বভারতী.pdf/৩৯৪

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


\S)AWV রবীন্দ্ৰ-রচনাবলী তো জানিব, আমার রঞ্জন আসবে। আজ সকালে জেগে উঠেই দেখি উত্তরে হাওয়ায় পালক আমার বিছানায় এসে পড়ে আছে । এই দেখো আমার বুকের আঁচলে । বিশু । তাই তো দেখছি, আর দেখছি কপালে আজ কুকুমের টিপ পরেছ। নন্দিনী । দেখা হলে এই পালক আমি তার চুড়োয় পরিয়ে দেব। বিশু । লোকে বলে নীলকণ্ঠের পাখায় জয়যাত্রার শুভচিহ্ন আছে । নন্দিনী । রঞ্জনের জয়যাত্রা আমার হৃদয়ের মধ্যে দিয়ে । বিশু । পাগলি, এখন আমি যাই আমার নিজের কাজে । নন্দিনী । না, আজ তোমাকে কাজ করতে দেব না । বিশু । কী করব বলো । নন্দিনী । গান করে । বিশু । কী গান করব ? নন্দিনী । পথ চাওয়ার গান । বিশু } 5R যুগে যুগে বুঝি আমায় চেয়েছিল সে । সেই বুঝি মোর পথের ধারে রয়েছে বসে । আজ কেন মোর পড়ে মনে, কখন তারে চোখের কোণে দেখেছিলেম অফুট প্রদোষে । সেই যেন মোর পথের ধারে রয়েছে বসে ! আজ ওই চাদের বরণ হবে আলোর সংগীতে, রাতের মুখের আঁধারখানি খুলবে ইঙ্গিতে । শুক্ল রাতে সেই আলোকে দেখা হবে, এক পলকে সব আবরণ যাবে যে খসে । সেই যেন মোর পথের ধারে রয়েছে বসে । নন্দিনী । পাগল, যখন তুমি গান কর। তখন কেবল আমার মনে হয়। অনেক তোমার পাওনা ছিল, কিন্তু কিছু তোমাকে দিতে পারি নি । বিশু । তোর সেই কিছু-না-দেওয়া আমি ললাটে পরে চলে যাব । অল্প-কিছু দেওয়ার দামে আমার গান বিক্রি করব না। -- এখন কোথায় যাবি ? নন্দিনী । পথের ধারে, যেখান দিয়ে রঞ্জন আসবে। সেইখানে বসে আবার তােমার গান শুনব । [উভয়ের প্রস্থান সর্দার ও মোড়লের প্রবেশ সর্দার । না, এ পাড়ায় রঞ্জনকে কিছুতে আসতে দেওয়া চলবে না । মোড়ল । ওকে দূরে রাখব বলেই বজগড়ের সুড়ঙ্গে কাজ করাতে নিয়ে গিয়েছিলুম। সর্দার । তা, কী হল ? মোড়ল । কিছুতেই পারা গেল না । সে বললে, “হুকুম মেনে কাজ করা আমার অভ্যোস নেই!” সর্দার । অভ্যোস এখনই শুরু করাতে দোষ কী ? ? মোড়ল । সে চেষ্টা করা গেল। বড়ো মোড়ল এল কোটালকে নিয়ে। মানুষটার ভয়ডর কিছুই নেই। গলায় একটু শাসনের সুর লেগেছে কি আমনি হাে হাে করে হেসে ওঠে। জিজ্ঞাসা করলে বলে, ‘গাভীর্য নির্বোধের মুখোশ, আমি তাই খসাতে এসেছি।”