পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (অষ্টম খণ্ড) - সুলভ বিশ্বভারতী.pdf/৪৭০

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


88r রবীন্দ্র-রচনাবলী আশা জাগে কেন অকারণে 던지자 지7R형이 - ব্যথার টানে তোমায় আনবে দ্বারে । ? অবলাকান্তবাবু আছেন | 2:קליאס) বিপিন ঘরে প্রবিষ্ট ও সচকিত হইয়া দণ্ডায়মান শৈলবালা । আসুন বিপিনবাবু। বিপিন । ঠিক করে বলুন, আসব কি । আমি আসার দরুন আপনাদের কোনোরকম লোকসান নেই ? রসিক । ঘর থেকে কিছু লোকসান না করলে লাভ হয় না বিপিনবাবু, ব্যাবসার এইরকম নিয়ম । যা গেল তা আবার দুনো হয়ে ফিরে আসতে পারে, কী বল অবলাকান্ত । শৈলবালা । রসিকদাদার রসিকতা আজকাল একটু শক্ত হয়ে আসছে। রসিক । গুড় জমে যেরকম শক্ত হয়ে আসে। কিন্তু, বিপিনবাবু কী ভাবছেন বলুন দেখি । বিপিন । ভাবছি কী ছুতো করে বিদায় নিলে আমাকে বিদায় দিতে আপনাদের ভদ্রতায় বাধবে না । শৈলবালা । বন্ধুত্বে যদি বাধে ? বিপিন । তা হলে ছুতো খোজবার কোনো দরকারই হয় না। শৈলবালা । তবে সেই খোজটা পরিত্যাগ করুন, ভালো হয়ে বসুন। রসিক । মুখখানা প্ৰসন্ন করুন বিপিনবাবু। আমাদের প্রতি ঈর্ষা করবেন না। আমি তো বৃদ্ধ, যুবকের ঈর্ষার যোগ্যই নই। আর, আমাদের সুকুমারমূর্তি অবলাকান্তবাবুকে কোনো স্ত্রীলোক পুরুষ বলে জ্ঞানই করে না । আপনাকে দেখে যদি কোনো সুন্দরী কিশোরী ত্ৰস্তহরিণীর মতো পলায়ন করে থাকেন তা হলে মনকে এই বলে সান্তনা দেবেন যে, তিনি আপনাকে পুরুষ বলেই মন্ত খাতিরটা কুরেছেন। হায় রে হতভাগ্য রসিক, তোকে দেখে কোনো তরুণী লজাতে পলায়নও করে না । বিপিন । রসিকবাবু আপনাকেও যে দলে টানছেন অবলাকাস্তবাবু। এ কিরকম হল । শৈলবালা । কী জানি বিপিনবাবু, আমার এই অবলাকান্ত নামটাই মিথ্যে- কোনো অবলা তো এ পর্যন্ত আমাকে কান্ত বলে বরণ করে নি । বিপিন । হতাশ হবেন না, এখনো সময় আছে । শৈলবালা । সে আশা এবং সে সময় যদি থাকত তা হলে চিরকুমার-সভায় নাম লেখাতে যৌতুম না। বিপিন । (স্বগত) এর মনের মধ্যে একটা কী বেদন রয়েছে, নইলে এত অল্প বয়সে এই কাচামুখে এমন স্নিগ্ধ কোমল করুণ ভাব থাকত না । এটা কিসের খাতা । গান লেখা দেখছি । নীরবালা দেবী । (পাঠ) শৈলবালা । কী পড়ছেন বিপিনবাবু। বিপিন । কোনো একটি অপরিচিতার কাছে অপরাধ করছি, হয়তো তার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবার সুযোগ পাব না এবং হয়তো তার কাছে শাস্তি পাবারও সৌভাগ্য হবে না, কিন্তু এই গানগুলি মানিক এবং হাতের অক্ষরগুলি মুক্তো। যদি লোভে পড়ে চুরি করি তবে দণ্ডদাতা বিধাতা ক্ষমা করবেন। শৈলবালা । বিধাতা মাপ করতে পারেন, কিন্তু আমি করব না । ও খাতাটির পরে আমার লোভ আছে বিপিনবাবু। রসিক। আর, আমি বুঝি লোভ মোহ সমস্ত জয় করে বসে আছি ? আহা, হাতের অক্ষরের মতো জিনিস আর আছে ? মনের ভাব মুর্তি ধীরে আঙুলের আগা দিয়ে বেরিয়ে আসে- অক্ষরগুলির উপর চোখ বুলিয়ে গেলে হৃদয়টি যেন চোখে এসে লাগে। অবলাকান্ত, এ খাতাখানি ছেড়ো না ভাই। তোমাদের চঞ্চলা নীরবালা দেবী কৌতুকের ঝরনার মতো দিনরাত ঝরে পড়ছে, তাকে তো ধরে রাখতে পার না, এই খাতাখানির পত্রপুটে তারই একটি গণ্ডুষ ভরে উঠেছে- এ জিনিসের দাম আছে। বিপিনবাবু, আপনি তো নীল-সালাদেক জানেন না, আপনি এ খাতাখানা নিয়ে কী করবেন ।