পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (অষ্টম খণ্ড) - সুলভ বিশ্বভারতী.pdf/৪৭১

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


চিরকুমার-সভা 88s বিপিন । আপনারা তো স্বয়ং তাকেই জানেন, খাতাখনিতে আপনাদের প্রয়োজন কী । এই খাতা থেকে আমি যেটুকু পরিচয় প্রত্যাশা করি তার প্রতি আপনার দৃষ্টি দেন কেন । শ্ৰীশের প্রবেশ শ্ৰীশ । মনে পড়েছে মশায় । সেদিন এখানে একটা বইয়েতে নাম দেখেছিলেম, নৃপবালা নীরবালা- এ কী, বিপিন যে ! তুমি এখানে হঠাৎ ? বিপিন । তোমার সম্বন্ধেও ঠিক ঐ প্রশ্নটা প্রয়োগ করা যেতে পারে। শ্ৰীশ । আমি এসেছিলুম আমার সেই সন্ন্যাসীসম্প্রদায়ের কথাটা অবলাকান্তবাবুর সঙ্গে আলোচনা করতে । ওঁর যেরকম চেহারা, কণ্ঠস্বর, মুখের ভাব, উনি ঠিক আমার সন্ন্যাসীর আদর্শ হতে পারেন । উনি যদি ওঁর ঐ চন্দ্রকলার মতো কপালটিতে চন্দন দিয়ে, গলায় মালা পরে, হাতে একটি বীণা নিয়ে, সকালবেলায় একটি পল্লীর মধ্যে প্রবেশ করেন তা হলে কোন গৃহস্থের হৃদয় না। গলাতে পারেন । রসিক। বুঝতে পারছি নে মশায়, হৃদয় গলাবার কি খুব জরুরি দরকার হয়েছে। শ্ৰীশ । চিরকুমার-সভা হৃদয় গলাবার সভা। রসিক । বলেন কী । তবে আমার দ্বারা কী কাজ পাবেন । শ্ৰীশ । আপনার মধ্যে যেরূপ উত্তাপ আছে আপনি উত্তরমেরুতে গেলে সেখানকার বরফ গলিয়ে বন্যা করে দিয়ে আসতে পারেন - বিপিন, উঠছ নাকি । বিপিন । যাই, আমাকে রাত্রে একটু পড়তে হবে। রসিক । (জনাস্তিকে) অবলাকান্ত জিজ্ঞাসা করছেন, পড়া হয়ে গেলে বইখানা কি ফেরত পাওয়া যাবে। বিপিন ) (জন্নাস্তিকে) পড়া হয়ে গেলে সে আলোচনা পরে হবে, আজ থােক। শৈলবালা । (মৃদুস্বরে) শ্ৰীশবাবু ইতস্তত করছেন কেন, আপনার কিছু হারিয়েছে নাকি । শ্ৰীশ । (মৃদুস্বরে) আজ থাক, আর-একদিন খুঁজে দেখব । [শ্ৰীশ ও বিপিনের প্রস্থান নীরবালা । (দ্রুত প্ৰবেশ করিয়া) এ কী রকমের ডাকাতি দিদি । আমার গানের খাতাখানা নিয়ে গেল ! আমার ভয়ানক রাগ হচ্ছে । রসিক { রাগ শব্দে নানা অর্থ অভিধানে কয় । নীরবালা । আচ্ছা পণ্ডিতমশায়, তোমার অভিধান জাহির করতে হবে না- আমার খাতা ফিরিয়ে আনে । রসিক । পুলিসে খবর দে ভাই, চোর ধরা আমার ব্যাবসা নয়। নীরবালা । কেন দিদি, তুমি আমার খাতা নিয়ে যেতে দিলে। শৈলবালা । এমন অমূল্য ধন তুই ফেলে রেখে যাস কেন । নীরবালা । আমি বুঝি ইচ্ছে করে ফেলে রেখে গেছি। রসিক । লোকে সেইরকম সন্দেহ করছে । নীরবালা । না রসিকদাদা, তোমার ও ঠাট্টা আমার ভালো লাগে না । রসিক । তা হলে ভয়ানক খারাপ অবস্থা, । [নীরবালার সক্রোধে প্ৰস্থান সলজ নৃপবালার প্রবেশ রসিক । কী নৃপ, হারাধন খুঁজে বেড়াচ্ছিস ? নৃপবালা । না, আমার কিছু হারায় নি । রসিক । সে তো অতি সুখের সংবাদ ৷ শৈলদিদি, তা হলে আর কেন, রুমালখানার মালিক যখন পাওয়া যাচ্ছে না। তখন যে লোক কুড়িয়ে পেয়েছে তাকেই ফিরিয়ে দিস। (শৈলর হাত হইতে রুমাল লইয়া) এ জিনিসটা করি ভাই।