পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (অষ্টম খণ্ড) - সুলভ বিশ্বভারতী.pdf/৭১৭

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


গ্ৰন্থপরিচয় Wedł মুক্তি চপল তব নবীন আঁখি দুটি ԳՏՀ উদঘাত জানি তোমার অজানা নাহি গো Գֆ8 নিবেদন কাহার গলায় পরাবি গানের OV) જીજી સન્મ আরো একটু বোসো তুমি ԵՏԳ পুরাতন অনেকদিনের আমার যে-গান Գ NշVՆ) প্ৰত্যাশা, সন্ধান, বরণডালা, নিবেদন, নিৰ্ভয়, গুপ্তধন, অবশেষ- মহুয়ার এই সাতটি কবিতাতেও রবীন্দ্রনাথ সুর দিয়াছিলেন ; দ্বিতীয়-সংস্করণ গীতবিতানের দ্বিতীয় খণ্ড দ্রষ্টব্য । বর্তমানে প্ৰচলিত গীতবিতানে সবগুলি গানই পাওয়া যায় । ১৩৩৬ সালে গ্রন্থপ্রকাশের অববাহিত পূর্বে মহুয়া সম্বন্ধে রবীন্দ্রনাথ যে-পত্ৰ লিখিয়াছিলেন নিম্নে তাহা মুদ্রিত হইল : লেখার বিষয়টা ছিল সংকল্প করা- প্ৰধানত প্ৰজাপতির উদেশে- আর তারই দালালি করেন। যে-দেবতা তাকেও মনে রাখতে হয়েছিল । অতএব মহুয়ারি কবিতাকে ঠিক আমার হালের কবিতা বলে শ্রেণীবদ্ধ করা চলে না । ভেবে দেখতে গেলে এটা কোনো কালবিশেষের নয়, এটা আকস্মিক । আমার সত্যিকার আধুনিক কবিতার সঙ্গে যদি এদের এক পঙক্তিতে বসাও তা হলে তাদের বর্ণভেদ অত্যন্ত পরিস্ফুট হয়ে উঠবে । কিন্তু আমার সন্দেহ হচ্ছে কিছু যেন অত্যুক্তি করা হল । ফরমাশ ব্যাপারটা মোটরগাড়ির স্টাটারের মতো । চালনাটা শুরু করে দেয়। কিন্তু তার পরে মোটরটা চলে আপন মোটরিক প্রকৃতির তাপে । প্রথম ধাক্কাটা একেবারেই ভুলে যায় । মহুয়ার কবিতাগুলিও লেখবার বেগে ফরম্যাশের ধাক্কা নিঃসন্দেহই সম্পূর্ণ ভুলেছে- কল্পনার আন্তরিক তড়িৎ-শক্তি আপন চিরন্তনী প্রেরণায় তাদের চালিয়ে নিয়ে গেছে । প্রথম হাতল ঘোরানো হতেও পারে বাইরের থেকে, কিন্তু সচলতা শুরু হবামাত্রই লেখবার আনন্দই সারথি হয়ে বসে । এইজন্য আমার বিশ্বাস, তোমরা এই লেখার মধ্যে নতুন কিছু পাবে, আকারে এবং প্রকারে । নতুন লেখার বেঁক যখন চিত্তের মধ্যে এসে পড়ে তখন তারা পূর্বদলের পুরানো পরিত্যক্ত বাসায় আশ্রয় নিতে চায় না ; নতুন বাসা না বাধতে পারলে তাদের মানায় না, কুলোয় না । ক্ষণিকার বাসা আর বলাকার বাসা এক নয় । আমি নিজে মহুয়ার কবিতার মধ্যে দুটাে দল দেখতে পাই । একটি হচ্ছে নিছক গীতিকাব্য, ছন্দ ও ভাষার ভঙ্গিতেই তার লীলা । তাতে প্ৰণয়ের প্রসাধনকলা মুখ্য । আর-একটিতে ভাবের আবেগ প্ৰধান স্থান নিয়েছে, তাতে প্ৰণয়ের সাধনবেগই প্ৰবল । মহুয়ার “মায়া’ নামক কবিতায় প্ৰণয়ের এই দুই ধারার পরিচয় দেওয়া হয়েছে। প্রেমের মধ্যে সৃষ্টিশক্তির ক্রিয়া প্রবল। প্ৰেম সাধারণ মানুষকে অসাধারণ করে রচনা করে-নিজের ভিতরকার বর্ণে রসে রূপে । তার সঙ্গে যোগ দেয়। বাইরের প্রকৃতি থেকে নানা গান গন্ধ, নানা আভাস । এমনি ক’রে অন্তর-বাহিরের মিলনে চিত্তের নিভৃত লোকে প্রেমের অপরূপ প্ৰসাধন নির্মিত হতে থাকেসেখানে ভাবে ভঙ্গিতে সাজে সজায় নূতন নূতন প্রকাশের জন্য ব্যাকুলতা, সেখানে অনির্বাচনীয়ের নানা ছন্দ, নানা ব্যঞ্জনা । একদিকে এই প্রসাধনের বৈচিত্ৰ্য, আর-একদিকে এই উপলব্ধির নিবিড়তা ও বিশেষত্ব । মহুয়ার কবিতা চিত্তের সেই মায়ালোকের কাব্য, তার কোনো অংশে ছন্দে ভাষায় ভঙ্গিতে এই প্রসাধনের আয়োজন, কোনো অংশে উপলব্ধির প্রকাশ । এই দুয়ের মধ্যে নূতনের বাসান্তিক স্পর্শ নিশ্চয় আছে— নইলে লিখতে আমার উৎসাহ থাকত না । তুমি তো জানই কত অল্প সময়ের মধ্যে এগুলি সমাধা করেছি। তার কারণ প্রবর্তনার বেগ মনে সতেজ ছিল । তাই অন্যমনস্কভাবে এই পত্রের পূর্বাংশে তোমাকে যা লিখেছি। অপরাংশে তার প্রতিবাদ করতে হল । বলেছিলুম এ লেখাগুলি আকস্মিক । ভুলেছিলুম সব কবিতাই যখনই লেখা যায়। তখনই আকস্মিক । সব কবিতা বললে হয়তো বেশি বলা হয় । এক-একটা সময়ে এক-একটা নতুন বঁাকের কবিতা । বারো মাসে পৃথিবীর ছয় ঋতু বাধা, তাদের পুনরাবর্তন ঘটে । কিন্তু আমার বিশ্বাস, একবার আমার মন থেকে যে-ঋতু যায়, সে আর-এক অপরিচিত ঋতুর জন্যে জায়গা করে বিদায় গ্ৰহণ