পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (নবম খণ্ড) - সুলভ বিশ্বভারতী.pdf/২৩৬

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।

NRJR রবীন্দ্র-রচনাবলী মালতী। সত্যি বলব ? তার চেয়ে অনেক বড়ো আশা। বলতে সংকােচ হয়। শ্ৰীমতী। ও, বুঝেছি। রাজরানী হবার দুয়াশা। পূর্বজন্মে। যদি অনেক দুস্কৃতি করে থাক তো হতেও পাের। বনের পাখি সোনার খাচা দেখে লোভ করে, যখন তার ডানায় চাপে দুষ্টবুদ্ধি। যাও, যাও, ফিরে যাও, এখনো मधग्न आtछ | ն : মালতী। কী তুমি বলছি দিদি, ভালো বুঝতে পারছি নে। শ্ৰীমতী । আমি বলছি মালতী। তুমি আমাকে কিছুই বোঝ নি। তবে স্পষ্ট করে বলি। শুনেছি। একদিন ভগবান বুদ্ধ বসেছিলেন এই আরাম-বনে অশোকতলায়। মহারাজ বিম্বিসার সেইখানেই নাকি বেদী গড়ে দিয়েছেন। শ্ৰীমতী । হা, সত্য । মালতী। রাজবাড়ির মেয়েরা সন্ধ্যাবেলায় সেখানে পূজা দেন। আমার যদি সে অধিকার না থাকে। আমি সেখানে ধুলা বঁট দেব এই আশা করে এখানে গায়িকার দলে ভর্তি হয়েছি। শ্ৰীমতী। এসো এসো বোন, ভালো হল। রাজকন্যাদের হাতে পূজার দীপে ধোওয়া দেয় বেশি, আলো দেয় কম। তোমার নির্মল হাতদুখানির জন্যে অপেক্ষা ছিল। কিন্তু এ কথা তোমাকে মনে করিয়ে দিলে GK ? মালতী । কেমন করে বলব দিদি । আজ বাতাসে বাতাসে যে আগুনের মতো কী এক মন্ত্র লেগেছে। সেদিন আমার ভাই গেল চলে। তার বয়স আঠারো। হাত ধরে জিজ্ঞাসা করলেম, “কোথায় যাচ্ছিস ভাই, সে বললে, ‘খুঁজতে।” শ্ৰীমতী। নদীর সব ঢেউকেই সমুদ্র আজ এক ডাকে ডেকেছে। পূর্ণচাঁদ উঠল - এ কী। তোমার হাতে যে আংটি দেখি ! কেমন লাগছে যে। স্বর্গের মন্দারকুড়ি তো ধুলোর দামে বিকিয়ে গেল না ? মালতী। তবে খুলে বলি- তুমি সব কথা বুঝবে। শ্ৰীমতী। অনেক কেঁদে বােঝবার শক্তি হয়েছে। মালতী । তিনি ধনী, আমরা দরিদ্র। দূর থেকে চুপ করে তঁাকে দেখেছি। একদিন নিজে এসে বললেন, ‘মালতীকে আমার ভালো লাগে।” বাবা বললেন, ‘মালতীর সৌভাগ্য।” সব আয়োজন সারা হল যেদিন এলেন তিনি দ্বারে। বরের বেশে নয় ভিক্ষুর বেশে। কাযায়বস্ত্ৰ, হাতে দণ্ড । বললেন, “যদি দেখা হয় তো মুক্তির পথে, এখানে নয়।--দিদি, কিছু মনে কোরো না- এখনো চোখে জল আসছে, মন যে ছােটাে। শ্ৰীমতী। চোখের জল বয়ে যাক-না। মুক্তিপথের ধুলো ঐ জলে মরবে। মালতী। প্ৰণাম করে বললেম, “আমার তো বন্ধন ক্ষয় হয়নি। যে আংটি পরাবে কথা দিয়েছিলে, সেটি দিয়ে যাও ” এই সেই আংটি। ভগবানের আরতিতে এটি যেদিন আমার হাত থেকে তার পায়ে খসে পড়বে সেইদিন মুক্তির পথে দেখা হবে। শ্ৰীমতী । কত মেয়ে ঘর বেঁধেছিল, আজ তারা ঘর ভাঙল। কত মেয়ে চীবর পরে পথে বেরিয়েছে, কে জানে সে কি পথের টানে না পথিকের টানে। কতবার হাত জোড় করে। মনে মনে প্রার্থনা করি।- বলি, ‘মহাপুরুষ, উদাসীন থেকে না। আজ ঘরে ঘরে নায়ীর চোখের জলে তুমিই বন্যা বইয়ে দিলে,তুমিই তাদের শান্তি দাও।” রাজবাড়ির মেয়েরা ঐ আসছেন।