প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (ষোড়শ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/১৬০

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


$¢ २ . রবীন্দ্র-রচনাবলী পুরবালা। ওস্তাদজি, থামো। আমার প্রস্তাব এই যে দিনের মধ্যে একটা সময় ঠিক করে য়খন তোমার ঠাট্ট বন্ধ থাকবে, যখন তোমার সঙ্গে দুটো-একটা কাজের কথা হতে পারবে । অক্ষয় । গরিবের ছেলে, স্ত্রীকে কথা বলতে দিতে ভরসা হয় না, পাছে খপ করে বাজুবন্দ চেয়ে বসে । গান পাছে চেয়ে বসে আমার মন আমি তাই ভয়ে ভয়ে থাকি । পাছে চোখে চোখে পড়ে বাধা আমি তাই তো তুলি নে আঁখি । পুরবালা । তবে যাও । অক্ষয় । না না, রাগরাগি না । আচ্ছা, যা বল তাই শুনব । খাতায় নাম লিখিয়ে তোমার ঠাট্টানিবারণী সভার সভ্য হব। তোমার সামনে কোনো রকমের বেয়াদবি করব না । তা, কী কথা হচ্ছিল। শু্যালীদের বিবাহ । উত্তম প্রস্তাব । পুরবাল । দেখো, এখন বাবা নেই। মা তোমারই মুখ চেয়ে আছেন । তোমারই কথা শুনে এখনও তিনি বেশি বয়স পর্যন্ত মেয়েদের লেখাপড়া শেখাচ্ছেন। এখন যদি সৎপাত্র না জুটিয়ে দিতে পার তা হলে কী অন্যায় হবে ভেবে দেখো দেখি । অক্ষয় । আমি তো তোমাকে বলেইছি তোমরা কোনো ভাবনা কোরো না। আমার শুালীপতিরা গোকুলে বাড়ছেন । পুরবালা। গোকুলটি কোথায় । অক্ষয় । যেখান থেকে এই হতভাগ্যকে তোমার গোষ্ঠে ভর্তি করেছ। আমাদের সেই চিরকুমার-সভা। পুরবালা । প্রজাপতির সঙ্গে তাদের যে লড়াই। অক্ষয় । দেবতার সঙ্গে লড়াই করে পারবে কেন । তাকে কেবল চটিয়ে দেয় মাত্র । সেইজন্যে ভগবান প্রজাপতির বিশেষ ঝোক ওই সভাটার উপরেই । সরা-চাপা হাড়ির মধ্যে মাংস যেমন গুমে গুমে সিদ্ধ হতে থাকে প্রতিজ্ঞার মধ্যে চাপা থেকে সভ্যগুলিও একেবারে হাড়ের কাছ পর্যস্ত নরম হয়ে উঠেছেন, দিব্যি বিবাহযোগ্য হয়ে এসেছেন— এখন পাতে দিলেই হয়। আমিও তো এক কালে ওই সভার সভাপতি ছিলুম। পুরবালা। তোমার কী রকম দশটি হয়েছিল। অক্ষয়। সে আর কী বলব। প্রতিজ্ঞা ছিল স্ত্রী শব্দ পর্যন্ত মুখে উচ্চারণ করব