প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (ষোড়শ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/১৭৭

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


চিরকুমার-সভা ა\',პა রসিক । এক ব্যক্তি ওঁকে লেজে করে নিয়ে যাবেন। পুরবালা। আমি কিছু বুঝতে পারছি নে। শৈল, তুই চিরকুমার-সভায় যাবি নাকি । শৈলবালা । আমি যে সভ্য হব। পুরবালা । কী বলিস তার ঠিক নেই। মেয়েমানুষ আবার সভ্য হবে কী । শৈলবালা । আজকাল মেয়েরাও যে সভ্য হয়ে উঠেছে। তাই আমি শাড়ি ছেড়ে চাপকান ধরব ঠিক করেছি। পুরবালা। বুঝেছি, ছদ্মবেশে সভ্য হতে যাচ্ছিস বুঝি। চুলটা তো কেটেইছিল, ওইটেই বাকি ছিল । তোমাদের যা খুশি করে, আমি এর মধ্যে নেই। অক্ষয় । না না, তুমি এ দলে ভিড়ে না। আর যার খুশি পুরুষ হোক, আমার অদৃষ্টে তুমি চিরদিন মেয়েই থেকে – নইলে ব্রীচ অফ কনট্রাক্ট = সে বড়ো ভয়ানক মকদমী— গান চিরদিবস এমনি থেকে আমার এই সাধ । পুরানো হাসি পুরানো সুধা মিটায় মম পুরানো ক্ষুধা, নূতন কোনো চকোর যেন পায় না পরসাদ । [ পুরবালার প্রস্থান শৈলবালাকে আশ্বাস দিয়া ভয় নেই! রাগটা হয়ে গেলেই মনটা পরিষ্কার হবে— একটু অনুতাপও হবে— সেইটেই সুযোগের সময় । রসিক — কোপো যত্র ভ্রুকুটিরচনা নিগ্রহে যত্র মৌনং যত্রান্তোন্তস্মিতমতুনয়ো যত্র দৃষ্টি: প্রসাদ । শৈলবালা রসিকদাদা, তুমি তো দিব্যি শ্লোক আউড়ে চলেছ— কোপ জিনিসটা কী, তা মুখুজ্জেমশায় টের পাবেন। রসিক। আরে ভাই, বদল করতে রাজি আছি । মুখুজ্জেমশায় যদি শ্লোক আওড়াতেন আর আমার উপরেই যদি কোপ পড়ত তা হলে এই পোড়া কপালকে সোনা দিয়ে বাধিয়ে রাখতুম। শৈলবালা । মুখুজ্জেমশায়। অক্ষয় । ( অত্যন্ত ত্রস্তভাবে) আবার মুখুজ্জেমশায় ! এই বালখিল্য মুনিদের ধ্যানভঙ্গ ব্যাপারের মধ্যে আমি নেই। ১৬১২