প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (ষোড়শ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/১৮৩

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


চিরকুমার-সভা S१¢ অক্ষয়। চললে নাকি মা ? রসিকদাদ যে এতক্ষণ দুঃখ করছিলেন যে তুমি— রসিক। (ব্যাকুলভাবে ) দাদার সকল কথাতেই ঠাট । মা, আমার কোনো দুঃখ নেই, আমি কেন দুঃখ করতে যাব। р অক্ষয় । বলছিলে না যে বড়োমা একলাই কাশী যাচ্ছেন, আমাকে সঙ্গে নিলেন না’ ? রসিক । হা, সে তো ঠিক কধা । মনে তো লাগতেই পারে, তবে কিনা মা যদি নিতান্তই— জগত্তারিণী। না বাপু, বিদেশে তোমার রসিকদাদাকে সামলাবে কে। ওঁকে নিয়ে পথ চলতে পারব না। " পুরবালা। কেন মা, রসিকদাদাকে নিয়ে গেলে উনি তোমাকে দেখতে-শুনতে পারতেন | জগত্তারিণী। রক্ষে করে, অামাকে আর দেখে-শুনে কাজ নেই। তোমার রসিক দাদার বুদ্ধির পরিচয় ঢের পেয়েছি। রসিক । (টাকে হাত বুলাইতে বুলাইতে ) ত, মা, যেটুকু বুদ্ধি আছে তার পরিচয় সর্বদাই দিচ্ছি, ও তো চেপে রাখবার জো নেই— ধরা পড়তেই হবে । ভাঙা চাকাটাই সব চেয়ে খড়, খড়, করে, তিনি যে ভাঙা সেটা পাড়াস্থদ্ধ খবর পায় । সেইজন্যেই বড়োমা, চুপচাপ করে থাকতেই চাই, কিন্তু তুমি যে আবার চালাতেও ছাড় না। জগত্তারিণী। আমি তা হলে হারানের বাড়ি চললুম, একেবারে তাদের সঙ্গে গাড়িতে উঠব ; এর পরে আর যাত্রার সময় নেই। পুরো, তোরা তো দিন ক্ষণ মানিস নে, ঠিক সময়ে ইস্টেশনে যাস । পুরবালা। মা, আমি কাশী যাব না। : হঠাৎ তাহার অসন্মতিতে বিপন্ন হইয়া জগত্তারিণী তাহার জামাতার মুথের দিকে চাহিলেন অক্ষয় । ( শাশুড়ির মনের ভাব বুঝিয় ) সে কি হয়। তুমি মার সঙ্গে না গেলে ওঁর অস্থবিধে হবে। আচ্ছ মা, তুমি এগোও, আমি ওকে ঠিক সময়ে স্টেশনে নিয়ে যাব । জগত্তারিণী নিশ্চিন্ত হইয় প্রস্থান করিলেন। রসিকদাদা টাকে হাত বুলাইতে বুলাইতে বিদায়কালীন বিমৰ্ষত মুখে আনিবার চেষ্টা করিতে লাগিলেন পুরুষবেশধারী শৈলের প্রবেশ অক্ষয়। কে মশায়। আপনি কে ?