প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (ষোড়শ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/২৩৪

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


❖ጳNo রবীন্দ্র-রচনাবলী রসিক । আসল কথাটা কী জান ? যিনি দাৰ্জিলিঙে থাকেন তিনি ম্যালেরিয়ার দেশে পা বাড়াবামাত্রই রোগে চেপে ধরে। এরা এতকাল চন্দ্রবাবুর বাসায় বডড নীরোগ জায়গায় ছিলেন, এই বাড়িটি যে রোগের বীজে ভরা এখানকার রুমালে বইয়ে চৌকিতে টেবিলে যেখানে স্পর্শ করছেন সেইখান থেকেই একেবারে নাকে মুখে রোগ ঢুকছে— আহা, শ্ৰীশবাবুট গেল । শৈলবালা রসিকদাদা, তোমার বুঝি রোগের বীজ অভ্যেস হয়ে গেছে। রসিক। আমার কথা ছেড়ে দাও । আমার পিলে যকৃৎ য-কিছু হবার তা হয়ে গেছে । নীরবালার প্রবেশ নীরবালা। দিদি, আমরা পাশের ঘরেই ছিলুম। রসিক । জেলেরা জাল টানাটানি করে মরছে, আর চিল বসে আছে ছে৷ মারবার জন্তে । নীরবাল । সেজদিদির রুমালখানা নিয়ে শ্ৰীশবাবু কী কাগুটাই করলে। সেজদিদি তো লজ্জায় লাল হয়ে পালিয়ে গেছে। আমি এমনি বোকা ভুলেও কিছু ফেলে যাই নি । বারোখানা রুমাল এনেছি, ভাবছি এবার ঘরের মধ্যে রুমালের হরির লুঠ দিয়ে যাব। শৈলবালা । তোর হাতে ও কিসের খাতা নীর । নীরবাল । যে গানগুলো আমার পছন্দ হয় ওতে লিখে রাখি দিদি । রসিক। ছোড় দিদি, আজকাল তোর কিরকম পারমার্থিক গান পছন্দ হচ্ছে তার এক-আধটা নমুনা দেখতে পারি কি। নীরবালা – দিন গেল রে, ডাক দিয়ে নে পারের খেয়া— * চুকিয়ে হিসেব মিটিয়ে দে তোর দেয়া-নেয়া । রসিক। দিদি ভারী ব্যস্ত যে। পার করবার নেয়ে ডেকে দিচ্ছি ভাই । যা দেবে যা নেবে সেটা মোকাবিলায় ঠিক করে নিয়ো । নীরবালা।– গান জলে নি আলো অন্ধকারে, দাও না সাড়া কি তাই বারে বারে। তোমার বাশি আমার বাজে বুকে কঠিন দুখে, গভীর মুখে— যে জানে না পথ কাদাও তারে ।