প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (ষোড়শ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/২৮০

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


২৭২ রবীন্দ্র-রচনাবলী নির্মলা। অবলাকান্তবাবু আমাকে কতকটা সাহায্য করবেন বলেছেন— আমি তাকে রোগীশুশ্ৰুষা সম্বন্ধে সেই ইংরাজি বইটা দিয়েছি, তিনি একটা অধ্যায় আজ লিখে পাঠাবেন বলেছেন। বোধ হয় এখনই পাওয়া যাবে, তাই অামি অপেক্ষা করে বসে আছি। চন্দ্রবাবু। ওই ছেলেটি বড়ো ভালো— নির্মলা। খুব ভালো— চমৎকার— · চন্দ্রবাবু। এমন অধ্যবসায়, এমন কার্যতৎপরতা— নির্মলা । আর, এমন সুন্দর নম্রস্বভাব— চন্দ্রবাবু। ভালো প্রস্তাবমাত্রেই তার উৎসাহ দেখে আমি আশ্চর্য হয়েছি। নির্মলা। তা ছাড়া, তাকে দেখবামাত্র তার মনের মাধুর্য মুখে এবং চেহারায় কেমন স্পষ্ট বোঝা যায় । চন্দ্রবাবু। এত অল্প কালের মধ্যেই যে কারও প্রতি এত গভীর স্নেহ জন্মাতে পারে তা আমি কখনো মনে করি নি। আমার ইচ্ছা করে, ওই ছেলেটিকে নিজের কাছে রেখে ওর সকলপ্রকার লেখাপড়ায় এবং কাজে সহায়তা করি । নির্মলা । তা হলে আমারও ভারী উপকার হয়, অনেক কাজ করতে পারি। আচ্ছা, এরকম প্রস্তাব করে একবার দেখোই-না – ওই-যে বেহার আসছে। বোধ হয় তিনি লেখাটা পাঠিয়ে দিয়েছেন। রামদীন, চিঠি আছে ? এই দিকে নিয়ে আয় । বেহরিার প্রবেশ ও চন্দ্রবাবুর হাতে চিঠি-প্রদান মামা, সেই প্রবন্ধটা নিশ্চয় তিনি আমাকে পাঠিয়েছেন, ওটা আমাকে দাও । চন্দ্রবাবু। না ফেনি, এটা আমার চিঠি। নির্মলা। তোমার চিঠি | অবলাকান্তবাবু বুঝি তোমাকেই লিখেছেন? কী লিখেছেন। চন্দ্রবাবু। না, এটা পূর্ণর লেখা। নির্মলা। পূর্ণবাবুর লেখা ? ও— চন্দ্রবাবু। পূর্ণ লিখছেন– “গুরুদেব, আপনার চরিত্র মহৎ, মনের বল অসামান্ত ; আপনার মতো বলিষ্ঠপ্রকৃতি লোকেই মামুষের দুর্বলতা ক্ষমার চক্ষে দেখিতে পারেন ইহাই মনে করিয়া অদ্য এই চিঠিখানি আপনাকে লিখিতে সাহসী হইতেছি।’ নির্মলা। হয়েছে কী। বোধ হয় পূর্ণবাবু চিরকুমার-সভা ছেড়ে দেবেন, তাই এত ভূমিকা করছেন। লক্ষ্য করে দেখেছ বোধ হয়, পূর্ণবাবু আজকাল কুমারসভার কোনো কাজই করে উঠতে পারেন না।