প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (ষোড়শ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৩১৪

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


w রবীন্দ্র-রচনাবলী وه مكا ছন্দোবদ্ধ রচনা শ্রুতিগম্য উচ্চৈঃস্বরে আবৃত্তি করিত। পাছে আহারের ব্যাঘাত ঘটে বলিয়া তাহার পিতৃদত্ত নাম উচ্চারণ করিতে কেহ সাহস করিত না, এইজন্য সকলেই স্বেচ্ছামতে র্তাহার নূতন নামকরণ করিত। বুড়োরা তাহাকে যজ্ঞনাশ’ বলিতেন, কিন্তু ছেলেরা কেন যে র্তাহাকে ‘চামচিকে বলিয়া ডাকিত তাহার স্পষ্ট কারণ পাওয়া যায় नी । দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ একদিন এইরূপে আস্ত্ৰতরুচ্ছায়াশীতল গ্রামের পথে যজ্ঞনাথ মধ্যাহ্নে বেড়াইতেছিলেন ; দেখিলেন একজন অপরিচিত বালক গ্রামের ছেলেদের সর্দার হইয়া উঠিয়া একটা সম্পূর্ণ নূতন উপদ্রবের পন্থা নির্দেশ করিতেছে। অন্যান্ত বালকেরা তাহার চরিত্রের বল এবং কল্পনার নূতনত্বে অভিভূত হইয়া কায়মনে তাহার বশ মানিয়াছে। অন্য বালকেরা বৃদ্ধকে দেখিয়া যেরূপ খেলায় ভঙ্গ দিত এ তাহা না করিয়া চট্‌ করিয়া আসিয়া যজ্ঞনাথের গায়ের কাছে চাদর ঝাড়া দিল এবং একটা বন্ধনমুক্ত গিরগিটি চাদর হইতে লাফাইয়া পড়িয় তাহার গা বাহিয়া অরণ্যাভিমুখে পলায়ন করিল— আকস্মিক ত্রাসে বৃদ্ধের সর্বশরীর কণ্টকিত হইয়া উঠিল । ছেলেদের মধ্যে ভারী একটা আনন্দের কলরব পড়িয়া গেল। আর কিছু দূর যাইতে না যাইতে যজ্ঞনাথের স্কন্ধ হইতে হঠাৎ তাহার গামছা অদৃপ্ত হইয়া অপরিচিত বালকটির মাথায় পাগড়ির আকার ধারণ করিল। এই অজ্ঞাত মানবকের নিকট হইতে এইপ্রকার নূতন প্রণালীর শিষ্টাচার প্রাপ্ত হইয়া যজ্ঞনাথ ভারী সন্তুষ্ট হইলেন। কোনো বালকের নিকট হইতে এরূপ অসংকোচ আত্মীয়তা তিনি বহুদিন পান নাই । বিস্তর ডাকাডাকি করিয়া এবং নানামতে আশ্বাস দিয়া যজ্ঞনাথ তাহাকে কতকটা আয়ত্ত করিয়া লইলেন । জিজ্ঞাসা করিলেন, “তোমার নাম কী ? সে বলিল, নিতাই পাল |’ ‘বাড়ি কোথায় ? ‘বলিব না।’ ‘বাপের নাম কী ? ‘বলিব না।’ ‘কেন বলিবে না ? - ‘আমি বাড়ি ছাড়িয়া পলাইয়া আসিয়াছি।’