প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (ষোড়শ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৪১৪

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


রবীন্দ্র-রচনাবলী ماده و সহজ নয় ; কিন্তু কঠিন হলেও তবু সত্যের সাধনাই করতে হবে। এ জাপ্রম আমাদের সাধনার ক্ষেত্র ; সে কথা ভুলে গিয়ে যখনই একে আমরা কেবলমাত্র কর্মক্ষেত্র বলে মনে করি তখনই আমাদের আত্মার বোধশক্তি বিকৃত হতে থাকে, তখনই আমাদের আমিটাই বলবান হয়ে ওঠে। তখনই আমরা পরস্পরকে আঘাত করি, অবিচার করি । তখন আমাদের উক্তি অত্যুক্তি হয়, আমাদের আচার অত্যাচার হয়ে পড়ে। 尊 কর্ম করতে করতে কর্মের সংকীর্ণতা আমাদের ঘিরে ফেলে ; কিন্তু দিনের মধ্যে অন্তত একবার মনকে তার বাইরে নিয়ে গিয়ে উদার সত্যকে আমাদের প্রাত্যহিক কর্মপ্রয়োজনের অতীত ক্ষেত্রে দেখে নিতে হবে । সপ্তাহের মধ্যে অন্তত একদিন এমনভাবে যাপন করতে হবে যাতে বোঝা যায় যে আমরা সত্যকে মানি । আমাদের সত্য করে বঁাচতে হবে ; সমস্ত মিথ্যার জাল, সমস্ত কৃত্রিমতার জঞ্জাল সরিয়ে ফেলতেই হবে— জগতে যিনি সকলের বড়ো তিনিই আমার জীবনের ঈশ্বর এ কথা আমাকে স্বীকার করতেই হবে । আমরা যে র্তার মধ্যে বেঁচে আাছি এ কথা কি জীবনে একদিনও অনুভব করে যেতে পারব না ? এই নানা সংস্কারে অঁাক, নানা প্রয়োজনে অঁাটা, আমির পর্দাটাকে মাঝে মাঝে সরিয়ে ফেলতে পারলেই তখনই চার দিকে দেখতে পাব জগং কী আশ্চর্য অপরূপ ! মানুষ কী বিপুল রহস্যময় ! তখন মনে হবে এই-সমস্ত পশুপক্ষী গাছপালাকে এই ষেন আমি প্রথম সমস্ত মন দিয়ে দেখতে পাচ্ছি ; আগে এরা আমার কাছে দেখা দেয় নি। সেইদিনই এই জ্যোহ্মারাত্রি তার সমস্ত হৃদয় উদ্‌ঘাটন করে দেবে ; এই আকাশে এই বাতাসে একটি চিরন্তন বাণী ধ্বনিত হয়ে উঠবে। সেইদিন আমাদের মানবসংসারের মধ্যে জগৎ-স্থষ্টির চরম অভিপ্রায়টিকে স্থগভীরভাবে দেখতে পাব ; এবং অতি সহজেই দূর হয়ে যাবে সমস্ত দাহ, সমস্ত বিক্ষোভ, এই অহমিকাবেষ্টিত ক্ষুদ্র জীবনের সমস্ত দুঃসহ বিকৃতি । ১৩১৯ ভাদ্র ১৩১৯