প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (ষোড়শ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৪২২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


838 通 ब्रशैठ-ब्रध्नांबलौ শুচি প্রসঙ্গক্রমে আজ দ্বিপ্রহরে আমার একটি পবিত্র বাল্যস্থতি মনের মধ্যে জাগ্রত হয়ে উঠেছে। বালক বয়সে যখন একটি খৃস্টান বিদ্যালয়ে আমি অধ্যয়ন করেছিলুম তখন একটি অধ্যাপককে দেখেছিলুম যার সঙ্গে আমার সেই অল্পকালের সংসর্গ আমার কাছে চিরস্মরণীয় হয়ে গেছে । শুনেছিলুম তিনি স্পেনদেশের একটি সম্রাস্ত ধনীবংশীয় লোক, ভোগৈশ্বৰ্ষ সমস্ত পরিত্যাগ করে ধর্মসাধনায় জীবন উৎসর্গ করেছেন। তার পাণ্ডিত্যও অসাধারণ, কিন্তু তিনি তার মণ্ডলীর আদেশক্রমে এই দূর প্রবাসে এক বিদ্যালয়ে নিতান্ত নিম্নশ্রেণীতে অধ্যাপনার কাজ করছেন। আমাদের ক্লাসে অল্প সময়েরই জন্য তাকে দেখতুম। ইংরেজি উচ্চারণ র্তার পক্ষে কষ্টসাধ্য ছিল, সেজন্যে ক্লাসের ছেলেরা তার পড়ানোতে শ্রদ্ধাপূর্বক মন দিত না ; বোধ করি সে তিনি বুঝতে পারতেন, কিন্তু তবু সেই পরম পণ্ডিত অবজ্ঞাপরায়ণ ছাত্রদের নিয়ে অবিচলিত শাস্তির সঙ্গে প্রতিদিন তার কর্তব্য সম্পন্ন করে যেতেন। কিন্তু, নিশ্চয়ই তার সেই শাস্তি কর্তব্যপরায়ণতার কঠোর শাস্তি নয়। র্তার সেই শাস্ত মুখস্ত্রর মধ্যে আমি গভীর একটি মাধুর্য দেখতে পেতুম। যদিচ আমি তখন নিতান্তই বালক ছিলুম, এবং এই অধ্যাপকের সঙ্গে নিকট-পরিচয়ের কোনো সুযোগই আমার ছিল না, তবু এই সৌম্যমূর্তি মৃদুভাষী তাপসের প্রতি আমার ভক্তি অত্যন্ত প্রগাঢ় ছিল । আমাদের এই অধ্যাপকটি স্বত্র পুরুষ ছিলেন না, কিন্তু তাকে দেখলে বা তাকে স্মরণ করলে আমার মন আকৃষ্ট হত। আমি তার মধ্যে কী দেখতে পেতুম সেই কথাটি আজ আমি আলোচনা করে দেখছিলুম। তার যে সৌন্দর্য সে একটি নম্রতা এবং শুচিতার সৌন্দর্য। আমি যেন তার মুখের মধ্যে, তার ধীর গতির মধ্যে, তার শুচিশুভ্র চিত্তকে দেখতে পেতুম। এ দেশে আমরা শুচিতার একটি মূর্তি প্রায়ই দেখতে পাই, সে অত্যন্ত সংকীর্ণ। সে যেন নিজের চতুর্দিককে কেবলই নিজের সংস্রব থেকে ধুলোর মতো ঝেড়ে ফেলতে থাকে। তার শুচিত কৃপণের ধনের মতো কঠিন সতর্কতার সঙ্গে অন্যকে পরিহার করে নিজেকে বাচিয়ে রাখতে চায়। এইরকম কঠোর আত্মপরায়ণ শুচিত বিশ্বকে কাছে টানে না, তাকে দূরে ঠেকিয়ে রাখে। ।