প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (ষোড়শ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৪৮৬

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


১৭ উদবোধন আজ আমাদের আশ্রমের এই বিশেষ দিনে আমাদের চিত্ত জাগ্ৰত হোক। সংসারের মধ্যে আমাদের যে উৎসবের দিন আসে সে দিন অন্ত দিন থেকে স্বতন্ত্র, প্রতিদিনের সঙ্গে তার স্বর মেলে না । কিন্তু, আমাদের এই উৎসবের দিনের সঙ্গে প্রতিদিনের যোগ আছে, এ যেন মোতির হারের মাঝখানে হীরার দোলক। যোগ আছে, আবার বিশেষত্বও আছে। কেননা, ওই বিশেষত্বের জন্যে মানুষের একটু আকাঙ্ক্ষা আছে। মানুষ এক-একদিন প্রতিদিনের জীবন থেকে একটু সরে এসে তার আনন্দের আস্বাদ পেতে চায়। যেজন্যে আমরা ঘরের অন্নকে একটু দূরে নিয়ে খাবার জন্তে বনভোজনে যাই। প্রত্যহের সামগ্ৰীকেই তার অভ্যাস থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে একটু নুতন করে পেতে চাই। তাই আজ আমরা আমাদের আশ্রমের অন্নকে একটু সরে এসে একটু বিশেষ করে ভোগ করবার জন্তে আয়োজন করেছি । কিন্তু, বনভোজনের আয়োজনে যখন খাদ্যসামগ্ৰী দূরে এবং একটু বড়ো করে বয়ে নিয়ে যেতে হয় তখন আমাদের ভাড়ারের হিসাবট মুহূর্তের মধ্যে চোখে পড়ে যায়। যদি প্রতিদিন অপব্যয় হয়ে থাকে তা হলে সেদিন দেখব টানাটানি পড়ে গেছে । আজ আমাদের অমৃত-অন্নের বনভোজনের আয়োজনে হয়তো অভাব দেখতে পাব। যদি পাই, তবে সেই অস্তরের অভাবকে বাইরের কী দিয়েই বা ঢাকা দেব। যারা শহরে থাকে তাদের সাজসরঞ্জামের অভাব নেই, তাই দিয়েই তারা তাদের উৎসবের মানরক্ষা করতে পারে। আমাদের এখানে সে-সমস্ত উদযোগের পথ বন্ধ। কিন্তু, ভয় নেই। প্রতিদিনই আমাদের আশ্রমের উৎসবের বায়না দেওয়া গেছে। এখানকার শালবনে পাখির বাসায়, এখানকার প্রাস্তরের আকাশে বাতাসের খেলার প্রাঙ্গণে, প্রতিদিনই আমাদের উৎসবের স্বর কিছু-না-কিছু জমেছে। কিন্তু প্রতিদিনের অন্তমনস্কতায় সেই রোশনচৌকি ভালো করে প্রাণে পৌছয় নি। আজ আমাদের অভ্যাসের জড়তাকে ঠেলে দিয়ে একবার মন দিতে পারলেই হয়, আর-কিছু বাইরে থেকে সংগ্ৰহ করতে হবে না। চিত্তকে শান্ত করে বলি, অঞ্জলি করে হাত পাতি, তা হলে মধুবনের মধুফল আপনিই হাতে এসে পড়বে। যে আয়োজন চারি দিকে আপনিই হয়ে আছে তাকেই ভোগ করাই যে আমাদের উৎসব। প্রতিদিন ডাকি নি বলেই র্যাকে দেখি নি আজি মনের সঙ্গে ডাক দিলেই যে তাকে দেখতে পাব। বাইরের উত্তেজনায়