প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:রবীন্দ্র-রচনাবলী (ষোড়শ খণ্ড) - বিশ্বভারতী.pdf/৫১৮

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


রবীন্দ্র-রচনাবলী هلاه . কন্তে না খেয়ে বাপের বাড়ি যান’ । যথাপরিমিত খাদ্যবস্তুর প্রয়োজন আছে এ কথা অজীর্ণরোগীকেও স্বীকার করতে হয়। কোনো কোনো কাব্যে বাগদেবী স্থূলখাদ্যাভাবে ছায়ার মতে হয়ে পড়েন। সেটাকে আধ্যাত্মিকতার লক্ষণ বলে উল্লাস না করে আধিভৌতিকতার অভাব বলে বিমর্ষ হওয়াই উচিত। পুনশ্চ কাব্যগ্রন্থে আধিভৌাতককে সমাদর করে ভোজে বসানো হয়েছে। যেন জামাইযষ্ঠ । এ মানুষটা পুরুষ। একে সোনার ঘড়ির চেন পরালেও অলংকৃত করা হয় না। তা হোক, পাশেই আছেন কাকন-পরা অর্ধবিগুষ্ঠিত মাধুরী, তিনি. র্তার শিল্পসমৃদ্ধ ব্যজনিকার আন্দোলনে এই ভোজের মধ্যে অমরাবতীর মৃদুমন্দ হাওয়ার আভাস এনে দিচ্ছেন। নিজের রচনা নিয়ে অহংকার করছি মনে করে আমাকে হঠাৎ সজুপদেশ দিতে বোসো না। আমি যে কীর্তিটা করেছি তার মূল্য নিয়ে কথা হচ্ছে না ; তার যেটি আদর্শ এই চিঠিতে তারই আলোচনা চলছে। বক্ষ্যমান কাব্যে গদ্যটি মাংসপেশল পুরুষ বলেই কিছু প্রাধান্ত যদি নিয়ে থাকে তবু তার কলাবতী বধু দরজার আধখোলা অবকাশ দিয়ে উকি মারছে, তার সেই ছায়াবৃত কটাক্ষ-সহযোগে সমস্ত দৃশুটি রসিকদের উপভোগ্য হবে বলেই ভরসা করেছিলুম। এর মধ্যে ছন্দ নেই বললে অত্যুক্তি হবে, ছন্দ আছে বললেও সেটাকে বলব স্পর্ধা । তবে কী বললে ঠিক হবে ব্যাখ্যা করি । ব্যাখ্যা করব কাব্যরস দিয়েই। বিবাহসভায় চন্দনচর্চিত বর-কনে টোপর মাথায় আল্পনা-আঁকা পিড়ির উপর বসেছে। পুরুত পড়ে চলেছে মন্ত্র, ও দিকে আকাশ থেকে আসছে শাহানা রাগিণীতে শানাইয়ের সংগীত। এমন অবস্থায় উভয়ের যে বিবাহ চলেছে সেটা নিসন্দিগ্ধ সুস্পষ্ট। নিশ্চিত-ছন্দ-ওয়ালা কাব্যে সেই শানাই-বাজনা সেই মন্ত্র-পড়া লেগেই আছে । তার সঙ্গে আছে লাল চেলি, বেনারসির জোড়, ফুলের মালা, ঝাড়-লনঠনের রোশনাই । সাধারণত যাকে কাব্য বলি সেটা হচ্ছে বচন-অনির্বচনের সদ্যোমিলনের পরিভূষিত উৎসব। অনুষ্ঠানে যা যা দরকার সযত্বে তা সংগ্রহ করা হয়েছে। কিন্তু, তার পরে ? অনুষ্ঠান তো বারো মাস চলবে না। তাই বলেই তো নীরবিত শাহানা সংগীতের সঙ্গে সঙ্গেই বরবধূর মহাশূন্যে অস্তধান কেউ প্রত্যাশ করে না। বিবাহঅনুষ্ঠানটা সমাপ্ত হল, কিন্তু বিবাহটা তো রইল, যদি না কোনো মানসিক বা সামাজিক উপনিপাত ঘটে। এখন থেকে শাহানা রাগিণীটা অশ্রুত বাজবে । এমনকি মাঝে মাঝে তার সঙ্গে বেস্থরো নিখাদে অত্যন্তশ্রত কড়া স্বরও না মেশা অস্বাভাবিক, স্বতরাং একেবারে না মেশা প্রার্থনীয় নয়। চেলি বেনারসিটা তোলা রইল, আবার কোনো অনুষ্ঠানের দিনে কাজে লাগবে । সপ্তপদীর বা