পাতা:রাণী না খুনি? (শেষ অংশ) - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়.pdf/৪১

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

রাণী না খুনী

৪১


সম্পূর্ণরূপে সহায়তা করিল। সামান্য় টাকার লোভে দেখিতে দেখিতে এই ভয়ানক নৃশংস হত্যাকাণ্ড সমাধা করিলাম!

 “এই ভয়ানক হত্যাকাণ্ড সমাধা হইবার পর, রামজীলালের মৃতদেহের উপর আমার দৃষ্টি একবার পতিত হইল। সেই দৃষ্টির সঙ্গে সঙ্গে ক্ষণকালের নিমিত্ত আমার মনের ভাবও সবিশেষরূপে পরিবর্ত্তিত হইয়া গেল। চক্ষু দিয়া বিন্দুপাত হইল, সামান্য় টাকার উপর ঘৃণা জন্মিল; পরকালের ভীষণ ভাবনা আসিয়া হৃদয় অধিকার করিল। কিন্তু অধিকক্ষণ পর্য্যন্ত এভাব আমার হৃদয়ে স্থান পাইতে দিলাম না। পরক্ষণেই আবার সে ভাব দূরে পলায়ন করিল। রামজীলালের সমভিব্যাহারে যে সকল জহরত ছিল, তাহার সমস্তগুলি তখন আমরা অপহরণ করিলাম।

 “রামজীলালের মৃতদেহ লইয়া তখন আমরা কি করিব, মনে সেই ভাবনা আসিয়া উপস্থিত হইল। একবার ভাবিলাম, রাত্রিকালে উহার মৃতদেহ টানিয়া রাস্তায় ফেলিয়া দিব; কিন্তু তাহা বিপদ-জনক বলিয়া মনে হইল। পুনরায় ভাবিলাম, একমাস পর্য্যন্ত খালি-বাড়ীর ভিতর এই মৃতদেহ আবদ্ধ থাকিলেই সকল গোল মিটিয়া যাইবে; একমাস পরে উহা দেখিয়া কেহই বুঝিতে পারিবে না যে, উহা কাহার মৃতদেহ। সুতরাং আমাদিগের বিপদের সম্ভাবনা অতি অল্পই থাকিবে। কিন্তু পরিশেষে মনে হইল, দুই চারিদিবসের মধ্যেই এই মৃতদেহ পচিয়া যখন ভয়ানক দুর্গন্ধ চতুর্দ্দিকে বহির্গত হইতে আরম্ভ হইবে, তখন পুলিস আসিয়া নিশ্চয়ই এই বাড়ী খুলিয়া বাড়ীর ভিতর প্রবেশ করিবে, এবং সম্মুখেই মৃতদেহ দেখিতে পাইয়া অনুসন্ধানে প্রবৃত্ত হইবে। এরূপ অবস্থায় সকল কথা প্রকাশ হইয়া পড়িবারই সম্পূর্ণরূপ