পাতা:রাধারাণী-বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়.djvu/১২৪

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।

তৃতীয় পরিচ্ছেদ পরদিন আবার মিত্রদিগের আলয়ে গিয়া দেখা দিলাম। গবলেঞ্জ পাঠাইলাম যে, আমি কলিকাতা ত্যাগ করিয়া যাইব । এক্ষণে সম্প্রতি প্রত্য - না—তিনি আমার শিস্য, আমি উাহাকে আশীৰ্ব্বাদ করিব। ' : o লবঙ্গলতা আমার সহিত পুনশ্চ সাক্ষাৎ করিল। আমি তাহাকে জিজ্ঞাসা করিলা . "আমি কালি যাহা শচীন্দ্রকে বলিয়া গিয়াছি, তাহ শুনিয়াছ কি ?” ল। শুনিয়াছি। তুমি অদ্বিতীয়। আমাকে ক্ষমা করিও আমি তোমার ও জানিতাম না। 氣 আমি নীরব হইয়া রহিলাম। তখন অবসর পাইয়া লবঙ্গলতা জিজ্ঞাসা করিল, “তু:ি আমার সঙ্গে সাক্ষাতের ইচ্ছা করিয়াছ কেন? তুমি নাকি কলিকাতা হইতে উঠিয়া যাইতেছ? অ ! যাইব । ল। কেন ? অ। যাইব না কেন ? আমাকে যাইতে বারণ করিবার ত কেহ নাই। ল। যদি আমি বারণ করি ? অ। আমি তোমার কে যে বারণ করিবে ? ল। তুমি আমার কে ? তা ত জানি না। এ পৃথিবীতে তুমি আমার কেহ নও। কিন্তু যদি লোকান্তর থাকে— 喙 লবঙ্গলতা আর কিছু বলিল না। আমি ক্ষণেক অপেক্ষা করিয়া বলিলাম, “যদি f লোকান্তর থাকে, তবে ?” s লবঙ্গলতা বলিল, “আমি স্ত্রীলোক—সহজে দুৰ্ব্বল। আমার কত বল, দেখিয়া তোমার কি হইবে ? আমি ইহাই বলিতে পারি, আমি তোমার পরম মঙ্গলাকাঙ্ক্ষী।” আমি বড় বিচলিত হইলাম, বলিলাম, “আমি সে কথায় বিশ্বাস করি। কিন্তু একটি কথা আমি কখন বুঝিতে পারিলাম না। তুমি যদি আমার মঙ্গলাকাজল, তবে আমার গায়ে চিরদিনের জন্য এ কলঙ্ক লিখিয়া দিলে কেন ? এ যে মুছিলে যায় না—কখন মুছিলে যাইবে না ।” লবঙ্গ অধোবদনে রহিল। ক্ষণেক ভাবিল। বলিল, “তুমি কুকাজ করিয়াছিলে, আমিও বালিকাবুদ্ধিতেই কুকাজ করিয়াছিলাম। যাহার যে দণ্ড, বিধাতা তাহার বিচার ፴