পাতা:রামচন্দ্রের বক্তৃতাবলী (দ্বিতীয় ভাগ).pdf/৪৯৬

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


{ ৪৭১ ] বিদ্যালাভ করা যায়। বেদ বিদ্যোপার্জন করিবার পর সাধন পথাবলম্বন পুৰ্ব্বক সমাধিস্থ হইবার কথা। সংক্ষেপে জ্ঞান বা বৈদিক মতের উদ্দেশ্য প্রভু আমার এইরূপে উল্লেখ করিয়াছেন। বর্তমান কালে বৈদিক শাস্ত্রাদি রীতি পূৰ্ব্বক অধ্যয়ন করিতে যদ্যপি কেহ প্রয়াস পান, কিন্তু তাহার সাধন করিবে কে ? যোগের প্রক্রিয়া কণ্ঠস্থ করা সহজ হইলেও তাহা আয়ত্ত করা যারপরনাই কঠিন । যোগের একটা একটী প্রক্রিয়াকুষ্ঠান এবং তাহ সমাধান করিতে এক জন্মে সংকুলান হয় না। হটযোগের আসন, নেতি, ধৌতি প্রভৃতি অন্ত্ৰ শুদ্ধি, ইন্দ্রিয়াদি সংযমন, ধ্যান. ধারণা, সমাধি কার্য্যে যে কি সাধনার প্রয়োজন, তাহ আমাদের বিদ্যাবুদ্ধির অতীত বিষয়। কেবল পাচটী অাসনায়ত্ত করিতে পারিলেই সে সৰ্ব্বকাৰ্য্য সিদ্ধি হইয়া যায়, তাহা নহে। কেবল দর্শনবিশেষের তাৎপৰ্য্য বোধ করিতে পারিলেই যে বেদমতে সিদ্ধ হইয়া যাইলাম, তাহা নহে। কার্য্য চাই, শাস্ত্র মৰ্ম্মজীবনে প্রতিফলিত করা চাই, তাহা হইলেই শাস্ত্রের উদ্দেশ্য সাধন হইতে পারে। কিন্তু এরূপ সাধক কোথায় ? কেহ থাকিতে পারেন গিরিগুহায়, কেহ থাকিতে পারেন নিবিড় অরণ্যে, কিন্তু সৰ্ব্বসাধারণের উপায় কি ? সৰ্ব্বসাধারণে বৈদিক কার্য্যে অশক্ত। অশক্ত অদ্য বা কল্য হন নাই। তাহ যুগ যুগান্তরের কথা। এই নিমিত্ত যুগধৰ্ম্মের ব্যবস্থা হইয়া আসিতেছে। ভক্তি পথে পুরান এবং তন্ত্রাদি শাস্ত্র কথিত হয়। সাধারণ সংস্কার এই যে, বৈদিক ধৰ্ম্ম তেজোহীন হইলে পুরাণ এবং তন্ত্রাদি স্বষ্টি হয় । একথা সম্পূর্ণ কাল্পনিক বলিয়া বোধ হয়। কারণ, বেদাদিশাস্ত্রও যেমন ব্রহ্মাণ্ড স্বস্টর পর স্থষ্টি দেখিয়া স্বষ্টি এবং স্বষ্টিকৰ্ত্তার বৃত্তাস্ত তদন্ত হইয়াছে, তেমনি লীলারসময়ের লীলাবলম্বন পূৰ্ব্বক পুরাণের