পাতা:রামতনু লাহিড়ী ও তৎকালীন বঙ্গসমাজ.djvu/১৮৮

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
১৪৬
রামতনু লাহিড়ী ও তৎকালীন বঙ্গসমাজ।

পারে নাই। তাঁহার আত্মীয় স্বজনগণের মুখে শুনিতে পাই, তিনি মাতৃভক্তির জন্য বিখ্যাত ছিলেন। বৃদ্ধবয়সেও জননীর সন্নিধানে আসিলে শিশুর মত হইয়া যাইতেন। অথচ সেই মাতার অনুরোধেও নিজের হৃদয়স্থিত বিশ্বাসের বিরুদ্ধে পুরাতন রীতি অনুসারে একটা আট বা দশ বৎসর বয়স্ক বালিকাকে বিবাহ করিতে সন্মত হন নাই।

 রাধানাথ যখন হিন্দু কালেজের প্রথম শ্রেণীতে পাঠ করেন তখন, অর্থাৎ ১৮৩২ সালে, জি, টি, সারভে আফিসে একটা ৩০ টাকা বেতনের কম্পিউটারের কৰ্ম্ম পান। পরিবারের ব্যয়নিৰ্ব্বাহ বিষয়ে পিতার সাহায্যার্থ তাঁহাকে এই কৰ্ম্ম লইতে হইয়াছিল। ঐ কৰ্ম্মে নিযুক্ত হইয়া তাঁহার মনে ইংরাজী বৈজ্ঞানিক গ্রন্থসকল সংস্কৃত ভাষাতে অনুবাদিত করিবার বাসনা প্রবল হয়। তদনুসারে মনোযোগের সহিত সংস্কৃত পাঠ করিতে আরম্ভ করেন। কিন্তু তাঁহাকে অবিলম্বে কলিকাতা পরিত্যাগ করিয়া উত্তর পশ্চিমাঞ্চলে যাইতে হয়। সেখানে তিনি বহু বৎসর বাস করিয়া নানাস্থানে কাজ করিয়াছিলেন। সেই সময়ে তাঁহার তেজস্বিতা, আত্ম-মর্য্যাদা-জ্ঞান ও কাৰ্য্যদক্ষতা প্রভৃতি দেখিয়া ইংরাজগণ তাঁহাকে যথেষ্ট শ্রদ্ধা করিতেন; এবং সমকক্ষের ন্যায় তাঁহার সঙ্গে মিশিতেন।

 এই কালের মধ্যে একটা ঘটনা ঘটিয়াছিল তাহাতে তাঁহার তেজস্বিতার বিশেষ প্রমাণ প্রাপ্ত হওয়া গিয়াছিল। একবার তিনি সারভে কার্য্যের ভার প্রাপ্ত হইয়া দেরাদুনে বাস করিতেছেন, এমন সময়ে একদিন সংবাদ আসিল যে উক্ত জেলার মাজিষ্ট্রেট ভ্যানসিটার্ট (Mr. Wansittart) মহোদয় তাঁহার সারভে আফিসের কতকগুলি কুলীকে বলপূৰ্ব্বক ধরিয়া লইয়া গিয়া কোন কোনও দ্রব্য বহন করাইয়া লইবার আদেশ করিয়াছেন। এই সংবাদে রাধানাথ বড়ই বিরক্ত হইয়া গেলেন। ভাবিলেন মাজিষ্ট্রেটের কুলীর প্রয়োজন হইয়া থাকিলে তাঁহাকে লিখিতে পারিতেন। মাজিষ্ট্রেট সাহেব বোধ হয় কালা মানুষ বলিয়া পত্র লেখা উপযুক্ত বিবেচনা করেন নাই। তিনি বাহির হইয়া মাজিষ্ট্রেটের জিনিস পত্র সহিত স্বীয় কুলীদিগকে নিজের আফিসের প্রাঙ্গণে ফিরিয়া আসিতে আদেশ করিলেন; এবং মাজিষ্ট্রেটের আরদালৗদিগকে বলিলেন, “মাজিষ্ট্রেটের পরওয়ানা ভিন্ন, আমার কুলী দিব না।” এই কথা মাজিষ্ট্রেটেয় কর্ণগোচর হইলে, তিনি রাগিয়া আগুন হইলেন; এবং রাজকাৰ্য্যের অবরোধ এই দোষ