পাতা:রামতনু লাহিড়ী ও তৎকালীন বঙ্গসমাজ.djvu/১৮৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
১৪৭
যষ্ঠ পরিচ্ছেদ।

দিয়া তাঁহার নামে নালিস করিলেন। আর একজন সিবিলিয়ানের কাছে বিচার হইল। অনেকে রাধানাথকে মাজিষ্ট্রেটের নিকট মার্জ্জনা চাহিতে পরামর্শ দিলেন; তিনি কিছুতেই তাহাতে সম্মত হইলেন না। সিবিলিয়ানের বিচারে তাঁহার ২০০ দুই শত টাকা জরিমানা হইল। তিনি গ্রাহ্যই করলেন না; দুই শত টাকা দণ্ড দিলেন। কিন্তু ইহাতে যে আন্দোলন উঠিল তাহাতে বলপূর্ব্বক গরীব কুলীদিগকে শ্রম-সাধা কার্য্যে নিযুক্ত করিবার রীতি রহিত হইয়া গেল।
 উত্তর পশ্চিমাঞ্চলে বাসকালের মধ্যে তাঁহার পদবৃদ্ধি হইয়া তিনি ৬০০ শত টাকা বেতনে সৰ্ব্ব প্রধান কম্পিউটারের পদে আরোহণ করেন। কেবল তাহা নহে; সারভে সংক্রান্ত গণিতে তিনি এমন পারদর্শী ছিলেন, যে কর্ণেল থু লয়ার সারভে বিষরে যে প্রসিদ্ধ গ্রন্থ মুদ্রিত করেন, তাহার প্রধান প্রধান গণনা তিনি লিখিয়া দিয়াছিলেন।
 ১৮৫৩ সালে তাঁহার পিতা ইহলোক পরিত্যাগ করেন। ইহার কয়েক বৎসর পরেই তিনি পেনসন লইয়া স্বদেশে ফিরিয়া অসিলেন। এরূপ শুনিতে পাওয়া যায় তখন তাঁহার আচার ব্যবহার অনেকটা ইংরাজের মত হইয়া গিয়াছিল। ইংরাজী ধরণে থাকিতে ও খাইতে ভাল বাসিতেন। এমন কি তাঁহার বাঙ্গালার উচ্চারণও বদলিয়া গিয়াছিল। কিন্তু তাঁহার উৎসাহ ও আত্মোন্নতি-বাসনার উৎকৃষ্ট প্রমাণ এই যে তিনি বঙ্গদেশে পুনঃ প্রতিষ্ঠিত হইয়াই মনোযোণ সহকারে বাঙ্গালা ভাষার চর্চাতে নিযুক্ত হইলেন। পণ্ডিত র ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর প্রমূখ সংস্কৃতজ্ঞ পণ্ডিতগণ এবং অক্ষয়কুমার দত্ত প্রভৃতি তৎপদানুযায়ী লেখকগণ বাঙ্গালী ভাষাকে যেরূপ পরিচ্ছদ পরাইয়া তুলিতে ছিলেন, তাহা তাহার চক্ষুশূল হইয়া উঠিল। তিনি বলিতে লাগিলেন যে ভাষা স্ত্রীলোকে বুঝিবে না, তাহা আবার বাঙ্গালা কি? এই ভাবটা তাঁহার মনকে এমনি অধিকার করিল ষে তিনি বাল্যবন্ধু পরম সুহৃদ প্যারীচাঁদ মিত্রকে সরল সহজ বাঙ্গালা লিখিবার জন্য প্ররোচনা করিতে লাগিলেন। উভয়ের সম্পাদকতাতে "মাসিক পত্রিকা" নামক পত্রিকা বাহির হইল; এবং অল্পদিন পরে প্যাঁরিচাদ মিত্র “আলালের ঘরের দুলাল” নামক উপন্যাস প্রচার করিলেন।
 সরল স্ত্রীপাঠ্য ভাষাতে বাঙ্গালা লেখা রাধানাথের একটা বাতিকের মত হইয়া উঠিয়াছিল। মাসিক পত্রিকাতে কোনও প্রবন্ধ লিখিয়া তিনি স্বীয়