পাতা:রামতনু লাহিড়ী ও তৎকালীন বঙ্গসমাজ.djvu/২১৩

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
১৬৯
সপ্তম পরিচ্ছেদ

নহে, দেশহিতকর সর্ব্ববিধ কার্য্যে যুবকবন্ধুগণের সঙ্গী হইতেন তাহা পূৰ্ব্বেই উক্ত হইয়াছে। তিনি রামমোহন রায়ের একজন প্রধান শিষ্য ছিলেন; এবং ১৮২৮ সালে রাজা যখন ব্রাহ্মসমাজ প্রথম প্রতিষ্ঠিত করেন, তখন তিনিই তাহার প্রথম সম্পাদক নিযুক্ত হন।

 জীবনের শেষভাগে তিনি বৰ্দ্ধমান-রাজের ম্যানেজারি কাৰ্য্যে নিযুক্ত হন। শুনিতে পাই বৰ্দ্ধমানাধিপতি মহতাপ চন্দ বাহাদুর তাঁহার কার্য্যে প্রীত হইয়া তাহাকে দাদা বলিয়া সম্বোধন করিতেন, এবং সৰ্ব্ববিষয়ে তাঁহার পরামর্শ লইয়া কাজ করিতেন। এই সম্মানিত পদে প্রতিষ্ঠিত থাকিতে থাকিতে তাঁহার দেহান্ত হয়। ১৮৪৩ সালে যে সকল ব্যক্তি নব্যবঙ্গের নেতৃরূপে দণ্ডায়মান ছিলেন, তন্মধ্যে ইনি একজন প্রধান।

 আর এক কারণে এই ১৮৪৩ সাল বঙ্গদেশের ইতিবৃত্তে চিরস্মরণীয়। এই সালে ভক্তিভাজন মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর মহাশয় ব্রাহ্মধৰ্ম্মে দীক্ষিত হইয়া ব্রাহ্মসমাজকে নবজীবন ও নবশক্তি প্রদান করেন। তাহার সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিম্নে প্রদত্ত হইতেছে;—

 দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর মহাশয় দ্বারকানাথ ঠাকুরের জ্যেষ্ঠপুত্র। অনুমান ১৮১৭ সালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। শৈশবে তিনি মহাত্মা রাজা রামমোহন রায়ের প্রতিষ্ঠিত স্কুলে কিছুদিন অধ্যয়ন করেন। তৎপরে হিন্দুকালেজে আসেন। হিন্দুকালেজে আসিয়া লাহিড়ী মহাশয়ের সহাধ্যায়ীদিগের মধ্যে পরিগণিত হন। এরূপ বোধ হয় ডিরোজিওর শিষ্যদলের সহিত তাঁহার বিশেষ ঘনিষ্টতা হয় নাই। যদিও তাঁহার পিতা রামমোহন রায়ের একজন বন্ধু ও রাজার প্রতিষ্ঠিত ব্রাহ্মসমাজের একজন প্রধান পৃষ্ঠ-পোষক ছিলেন, তথাপি গৃহস্থিত প্রাচীন মহিলাগণের শিক্ষার গুণে দেবেন্দ্রনাথ বাল্যকালে প্রাচীন ধৰ্ম্মেই আস্থাবান ছিলেন। কিন্তু কতকগুলি আশ্চর্ষ্য ঘটনা ঘটিয়া তাঁহার হৃদয় পরিবর্ত্তিত হয়। সে সমুদয় কথার এখানে উল্লেখ নিম্প্রয়োজন।

 বিষয় সুখকে হেল্পজ্ঞান করিয়া যখন তিনি প্রাচীন বেদান্ত ধৰ্ম্মের অনুশীলনে যত্নবান হইলেন, তখন, ১৮৩৮ সালে, ‘তত্ত্ববোধিনী সভা’ নামে এক সভা স্থাপন করিয়া সেই উদ্দেশ্য সাধন করিতে অগ্রসর হইলেন।

 দুই তিন বৎসরের মধ্যে তত্ত্ববোধিনী সভার সভ্য সংখ্যা বহুগুণ বৃদ্ধি পাইল। ১৮৪০ সালে তিনি তত্ত্ববোধিনী পাঠশালা নামে একটী বিদ্যালয়

 ২২