পাতা:রামতনু লাহিড়ী ও তৎকালীন বঙ্গসমাজ.djvu/২১৬

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
১৭২
রামতনু লাহিড়ী ও তৎকালীন বঙ্গসমাজ।

কৰি মধুসূদন দত্ত, ভূদেব মুখোপাধ্যায়, সুপ্রসিদ্ধ রাজনারায়ণ বসু প্রভৃতি এই সময়ে হিন্দুকালেজে পাঠ করিতেছিলেন। সে সময়কার লোকের মুখে শুনিয়াছি যে কালেজের বালকের গোলদিঘীর মধ্যে প্রকাশ্য স্থানে বসিয়া মাধবদত্তের বাজারের নিকটস্থ মুসলমান দোকানদারের দোকান হইতে কাবাব মাংস কিনিয়া আনিয়া দশজনে মিলিয়া আহার করিত ও সুরাপান করিত। যে যত অসমসাহসিকতা দেখাইতে পারিত তাহার তত বাহাদুরি হইত, সেই তত সংস্কারক বলিয়া পরিগণিত হইত!

 একদিকে যুবক বয়স্যদিগের মধ্যে এইরূপে দেশীয় রীতিবিরুদ্ধ আচরণ ওদিকে কালেজ গৃহে ডি এল রিচার্ডসন সাহেবের সেক্সপীয়ার পাঠ। এরূপ সেক্স্পীয়ার পড়িতে কাহাকেও শোনা যায় নাই। তিনি সেক্সপীয়ার পড়িতে পড়িতে নিজে উন্মত্ত-প্রায় হইয়া যাইতেন, এবং ছাত্রগণকেও মাতাইয়া তুলিতেন। তিনি যে অনেক পরিমাণে মধুসূদনের কবিত্ব শক্তি স্ফুরণের কারণ হইয়াছিলেন, তাহাতে সন্দেহ নাই। তাঁহার মুখে সেক্সপীয়ার শুনিয়া ছাত্রগণ সেক্সপীয়ায়ের ন্যায় কবি নাই, ইংরাজী সাহিত্যের ন্যায় সাহিত্য নাই, এই জ্ঞানেই বৰ্দ্ধিত হইত। দেশের কোনও বিষয়ের প্রতি আর দৃকপাত কল্পিত না। স্বজাতি-বিদ্বেষ অনেক বালকের মনে অত্যন্ত প্রবল হইয়া উঠিয়াছিল। এই ভাবাপন্ন ছাত্রগণের মধ্যে সুরাপান অবাধে চলিত। অতিরিক্ত সুরাপান বশত: অনেক শিক্ষিত যুবকের শরীর একেবারে ভগ্ন হইয়া গিয়াছিল, এবং অনেকে অকালে কালগ্রাসে পতিত হইয়াছিলেন।

 সময় বুঝিয়া এই সময়ে সুবাগী খ্ৰীষ্টীয় প্রচারক ডফ তাঁহার মধ্য বয়সের অদম্য উদ্যমের সহিত কাৰ্য্য করিতেছিলেন। ডিরোজিওর শিষ্য ও রামতনু লাহিড়ী মহাশয়ের যৌবন-সুহৃদ মহেশ্চন্দ্র ঘোষ ও কৃষ্ণমোহন বন্দ্যোপাধ্যায় খ্ৰীষ্টধৰ্ম্ম অবলম্বন করার পর দেশমধ্যে যে আন্দোলন উঠিয়াছিল বলিতে গেলে তাহা আর থামে নাই। এই সময়ে বা ইহার কয়েক বৎসর পরে পাথুরিয়াঘাটার প্রসন্নকুমার ঠাকুর মহাশয়ের একমাত্র পুত্র জ্ঞানেন্দ্রমোহন ঠাকুর খ্ৰীষ্টধৰ্ম্মে দীক্ষিত হইয়া, কৃষ্ণমোহন বন্দ্যোপাধ্যায়ের কন্যা কমলমণিকে বিবাহ করেন। এতদ্ব্যতীত গুরুদাস মৈত্র প্রভৃতি আরও কয়েকজন ভদ্রঘরের ছেলে খ্ৰীষ্টধৰ্ম্মাবলম্বন করেন। তন্মধ্যে ১৮৪৫ সালে একজনকে লইয়া তুমুল আন্দোলন উপস্থিত হয়। ঠাকুর বাবুদের দেওয়ানের পুত্র উমেশচন্দ্র সরকার খ্ৰীষ্টধৰ্ম্ম-গ্রহণের