পাতা:রামতনু লাহিড়ী ও তৎকালীন বঙ্গসমাজ.djvu/২৪

এই পাতাটিকে বৈধকরণ করা হয়েছে। পাতাটিতে কোনো প্রকার ভুল পেলে তা ঠিক করুন বা জানান।
রামতনু লাহিড়ী ও তৎকালীন বঙ্গসমাজ ।

হইরা তাঁহাকে নবদ্বীপ প্রভৃতি কয়েকটী পরগণার জমিদারী ও মজুমদার উপাধি প্রদান করেন। এই ভবানন্দ মজুমদার কৃষ্ণনগরের রাজবংশের প্রতিষ্ঠাকৰ্ত্তা।

 পূৰ্ব্বে মাটিয়ারি নামক স্থানে এই রাজবংশের রাজধানী ছিল। কিন্তু ভবানন্দের পৌৎত্র রাঘব বর্ত্তমান কৃষ্ণনগরে রাজধানীর পত্তন করেন। তখন ঐ স্থানে রেউই নামে একটি ক্ষুদ্র গ্রাম ছিল। ঐ গ্রামে বহুসংখ্যক গোপজাতীয় লোকের বাস ছিল। ঐ সকল গোপ মহাসমারোহ পূৰ্ব্বক কৃষ্ণের পূজা করিত বলিয়া রাঘবের পুত্র রুদ্র রাজধানীর নাম কৃষ্ণনগর রাখিলেন। তদবধি কৃষ্ণনগর বঙ্গদেশের ইতিবৃত্তে প্রসিদ্ধ স্থান হইয়া উঠিল। তদবধি কৃষ্ণনগরই এই রাজগণের বাসস্থান হইয়া রহিয়াছে। কেবল মধ্যে মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্র একবার মহারাষ্ট্রীয়দিগের উপদ্রবে উত্ত্যক্ত হইয়া কৃষ্ণনগর পরিত্যাগ পূৰ্ব্বক ইহার ছয় ক্রোশ দূরে, নিজ জ্যেষ্ঠ পুৎত্র শিবচন্দ্রের নামে, শিবনিবাস নামক এক নগর স্থাপন করিয়া তাহাতে কিছু দিন বাস করিয়াছিলেন। কৃষ্ণচন্দ্রের পৌৎত্র ঈশ্বরচন্দ্র শিবনিবাস ত্যাগ করিয়া কৃষ্ণনগরে অবস্থিত হন। সুতরাং রামতনু লাহিড়ী মহাশয়ের জন্মকালে কৃষ্ণনগরই ঐ রাজবংশের রাজধানী ছিল। এক্ষণে ইষ্টারণ বেঙ্গল রেলওয়ের শিবনিবাস নামক ষ্টেশন ঐ শিবনিবাসের পরিচয় দিতেছে।

 ভবানন্দ মজুমদারের সময় হইতে ইঁহাদের জমিদারির উত্তরোত্তর উন্নতিই হইতে থাকে। অবশেষে কৃষ্ণচন্দ্রের সময় ৮৪টী পরগণা এই রাজ্যের অন্তর্ভূত হয়। কবিবর ভারতচন্দ্র তাহার নিম্নলিখিত বিবরণ দিয়াছেন —

অধিকার রাজার চৌরাশী পরগণা,
খাড়ি জুড়ী আদি করি দপ্তরে গণনা॥
রাজ্যের উত্তর সীমা মুরশিদাবাদ,
পশ্চিমের সীমা গঙ্গা ভাগিরথী খাদ।
দক্ষিণের সীমা গঙ্গা-সাগরের ধার,
পূৰ্ব্ব সীমা ধুল্যাপুর বড় গঙ্গা পার॥

 নদীয়ার রাজগণ এই বিস্তীর্ণ রাজ্যের অধিকারী ছিলেন; বহু সংখ্যক পদাতিক ও অশ্বারোহী সৈন্য রাখিতেন; সৰ্ব্বদাই দেশের অপরাপর রাজগণের সহিত যুদ্ধ বিগ্রহে প্রবৃত্ত থাকিতেন; এবং নামতঃ যবন রাজাদিগের অধীনে থাকিয়াও সৰ্ব্ব বিষয়ে স্বাধীন রাজার ন্যায় বাস করিতেন।