পাতা:রামতনু লাহিড়ী ও তৎকালীন বঙ্গসমাজ.djvu/৩০৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।
২৫৫
দশম পরিচ্ছেদ।

প্রভাব নির্ভর করে না, পশ্চাতে যে মানুষটা থাকে তাহারই উপরে অধিকাংশত: নির্ভর করে। সোমপ্রকাশের প্রভাবের মূল ছিলেন দ্বারকানাথ বিদ্যাভূষণ। সেই তেজস্বিতাসেই মনুষ্যত্ব, সেই ঐকাস্তিকতাসেই কৰ্তব্য-পরাগণতাসেই সত্য নিষ্ঠা পশ্চাতে ছিল বলিরাই সোমপ্রকাশের প্রভাব দেশমধ্যে ব্যাপ্ত হইয়াছিল।

 তৎপরে উল্লেখ যোগ্য সামাজিক ঘটনা হোমিওপেথি রাজ্যে ডাঃ মহেন্দ্রলাল সরকারের পদার্পণ ও তঞ্জনিত আন্দোলন। কলিকাত৷ সহরে হোমিওপ্যাথির আবির্ভাব ও তৎসম্বন্ধে ওয়েলিংটন স্কোয়ারের দত্ত পরিবারের প্রসিদ্ধ রাজা বাবুর কার্য্য বিষয়ে অগ্ৰেই কিঞ্চিৎ বিবরণ দিয়াছিগ ডাক্তার বেরিণি সাহেবকে অবলম্বন করিয়া রাজাবাবু কাৰ্য্যক্ষেত্রে প্রায় একাকী দণ্ডাজ্জমান রহিয়াছিলেন। তাহারই সংশবে অ্যাসিয়া অনেকগুলি যুবক হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা প্ৰণালী অবলম্বন করিতেছিলেন। ইহাদের অনেকে পরে যশস্বী হইয়াছেন। তাহাদের মধ্যে অনেকে দেশ। বিদেশে হোমিওপ্যাথির বাৰ্ত্তা লইয়া যাইতেছিলেন। ইতিমধ্যে এক ঘটনা ঘটিল যাহাতে কলিকাতার শিক্ষিত সমাজকে প্রবলরূপে। আলোড়িত করিল; এবং তৎ সঙ্গে সঙ্গে হোমিওপ্যাথির পতাকাকে সৰ্ব্বজনের চক্ষের সমক্ষে উড়ন। করিল। ভাহা ডাক্তার মহেন্দ্রলাল সরকারের হোমিওপ্যাথি প্ৰণালী অবলম্বন। এলোপ্যাথির সহিত তুলনায় হোমিওপ্যাথি উৎকৃষ্টতর লোকেয় এ সংস্কার যে জন্মিল তাহা নহে, কিন্তু মত পরিবর্তনের সময় ডাক্তার সরকারের যে তেজ, যে সত্যনিষ্ঠা, যে মনুষ্যত্ব লোকে দেখিল, তাহাই সকলের চিত্তকে বিশেষরূপে উত্তেজিত করিয়াছিল; এবং বঙ্গবাসীর মনে এক নব ভাব আনিয়া দিয়া ছিল। এই সাহসী, সত্যপ্রিয় ও ধর্মানুরাগী পুরুষের জীবন-চরিত পর পরিচ্ছেদে প্রদত্ত হইল।

 তিনি ১৮৮৩ সাপে কলিকাত! মেডিকেল কালেঞ্জ হইতে এম, ডি, পরীক্ষাতে উত্তীর্ণ হইয়া সহরের অগ্রগণ্য চিকিৎসকদিগের মধ্যেস্থান প্রাপ্ত হন। ঐ সালেই প্রধানতঃ প্রসিদ্ধ ডাক্তার ওডীভ চক্রবর্তীর প্রষত্যুে, ব্রিটিশ মেডিকেল এসোসিএ শনের বঙ্গদেশীয় শাখা নামে একটী শাখা • সভা স্থাপিত হয়। ঐ সভার প্রতিষ্ঠার দিনে মহেন্দ্রলাল একটী বক্ত তা করেন, তাহাতে হোমিওপ্যাথির নিন্দা করেন। ঐ মিনাবাদ রাঁগা বাবুর চক্ষে পড়িলে, তিনি মহেন্দ্রলালের সহিত বিচার করিতে আরম্ভ করেন। ইতিমধ্যে একজন বন্ধু ইণ্ডিয়ান ফীড় নামক কাগজের মত মহেন্দ্রলালকে (Morgang) মর্গান সাহেবের লিখিত