পাতা:রামতনু লাহিড়ী ও তৎকালীন বঙ্গসমাজ.djvu/৩৪৮

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
২৮৮
রামতনু লাহিড়ী ও তৎকালীন বঙ্গসমাজ

এবং তাহাও অগ্রিম দেয়। বাস্তবিক দশট টাকা অগ্ৰে প্রেরণ না করিলে কাহাকেও একখানি কাগজ দেওয়া হইত না । ইহাতেও সোমপ্রকাশের গ্রাহক সে সময়ের পক্ষে বহুসংখ্যক ছিল ।

 সোমপ্রকাশ যদিও ১৮৬৩ সালের পূৰ্ব্বেই প্রকাশিত হইয়াছিল, তথাপি ১৮৬০ হইতে ১৮৭০ পর্য্যন্ত এই কালের মধ্যেই ইহার প্রভাব সৰ্ব্বত্র ব্যাপ্ত হয় ; ইহ এক দিকে গবর্ণমেণ্টের, অপর দিকে দেশবাসিগণের দৃষ্টিকে আকর্ষণ করে । প্রথম কয়েক বৎসর হই। কলিকাতায় চাপাতলার এক গলি হইতে বাহির হইত। তখন সেই ভবনে ঈশ্বল্পচন্দ্র বিদ্যাসাগর মহাশয় সৰ্ব্বদা পদার্পণ করিতেন ; এবং পরামর্শাদি দ্বারা সোমপ্রকাশ সম্পাদন বিষয়ে বিদ্যাভূষণ মহাশষ্ট্রের বিশেষ সহায়তা করিতেন ।

 পরে ১৮৬১ কি ১৮৬২ সালে মাতলার রেলওয়ে খোলে । মাতলা বা পোষ্ট ক্যানিং একটা প্রধান বন্দর হুইবে গবর্ণমেণ্টের মনে এই আশা ছিল। গঙ্গার মুখে চড়া পড়িয়া বড় বড় জাহাজ কলিকাতাতে আসা দুঃসাধ্য হওয়াতে, মাতলাতে একটা বন্দর করিবার কথা চলিতেছিল, এবং পোর্ট ক্যানিং কোম্পানি নামে এক কোম্পানি করিয়া টাকা তোলা হইয়াছিল। শেষে মাতলাকে অস্বাস্থ্যকর দেখিয়া সে সংকল্প ত্যাগ করা হইল । গবর্ণমেণ্টের রেলওয়ে খোলাই সার হইল ।

 মাতলা রেলওয়ে খুলিলেই বিদ্যাভূষণ মহাশয় সোমপ্রকাশ যন্ত্র তাহার বাসগ্রাম চাঙ্গড়িপোতাতে লইয়া যান, এবং সেখান হইতে উহা প্রকাশ করিতে থাকেন। সোমপ্রকাশ সে বিভাগের একটা প্রবল শক্তি হইয়া দাড়ায়। ইহার সাহায্যে অনেক সদনুষ্ঠানের স্বত্রপাত হইয়াছে, অনেক অত্যাচার নিবারিত হইয়াছে। কেবল তাই নহে, দেশে গিয়াই রিদ্যাভূষণ মহাশয় নিজ বাসগ্রামের নানা প্রকার কল্যাণ সাধনে নিযুক্ত হইলেন। তন্মধ্যে একটী উচ্চশ্রেণীর ইংরাজী স্কুল স্থাপন। ঐ স্কুলট তিনি নিজের ব্যয়ে ও নিজের চেষ্টাতে রক্ষা করিতে লাগিলেন। তাহাতে কয়েক বৎসরে তাহার প্রচুর অর্থ ব্যয় হইয়া গেল। আত্মীয় স্বজন বন্ধু বান্ধর এই ব্যয়সাধ্য ব্যাপার হইতে নিরস্ত হইবার জন্ত তাহাকে কতই পরামর্শ দিয়াছিলেন, কিন্তু তিনি তাহার প্রতি কৰ্ণপাত করেন নাই। অনেক সময় দেখিয়াছি সংস্কৃত কালেজ হইতে বেতনটী পাইয়া ৰাষ্ট্রীতে ফিরিবার সময় পথে স্কুলগৃহে প্রবেশ করিয়া সে বেতনের অধিকাংশ তথাকার ব্যয় নিৰ্ব্বাহের জন্ত দিয়া সামান্ত অর্থ লইয়া গৃহে ফিরিয়াছেন।