পাতা:রামতনু লাহিড়ী ও তৎকালীন বঙ্গসমাজ.djvu/৩৫৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।
২৯৭
একাদশ পরিচ্ছেদ।

বুঝি বা চৌধুরী মহাপদ্মদিগের আশ্রয় হইতে বঞ্চিত হইতে হইল। ভয়ে ভয়ে ব'স করিতে লাগিলাম। তৎপরদিন বৈকালে ডাক্তার সরকারের আসিবার কথা। Iছল না। তথাপি তিনি আসিলেন। আসিয়াই। নীচের ঘরেজিজ্ঞাসা। করিলেন “শিবনাথ ভট্টাচার্য্য তোমাদৈর বাড়ীতে কে?” তাহারা হাসিয়া। বলিলেন ‘সেই যে মশাই পাগল ছেলেটা”। শুনিলাম ডাক্তার সরকার গম্ভীর ভাবে বলিলেন—“ঈশ্বর করুন এমনি পাগল ছেলে দেশে বেশী হয়। আমি তার সঙ্গে দেখা করতে চাই।”

আমি উপরে বসিয়৷ পড়িতেছিলাম, লোকে আসিয়া আমাকে টানিয়া লাইয়া গেল।; ‘ওরে আয় আয় ডাক্তার সরকার তোকে ডাকচেন। আমি কাপিতে কাপিতে গিয়া। উপস্থিত। আমি ঘরে প্রবেশ করিবামাত্র ডাক্তার সরকার টেবিলের অপর পার্থে উঠিয়া দাড়াইলেন এবং হস্ত প্রসারিত। করিয়া আমার হাত ধরিলেন। বলিলেন: —"তোমার ইংরাজী স্টেটমেন্ট দেখে খুসি হয়েছি; আর তোমার বাঙ্গালা পত্রের জন্য আমার মান্তরিক ধ্যবাদ গ্রহণ কর। আমি ত অবাক, তারপর তিনি আমাকে তার গাড়িতে তুলিয়া তার বাড়ী। পর্য্যন্ত আনিলেন। গিরিশবাবুর ওরূপ প্রশ্ন করা কেন উচিত হয়। নাই, এবং এ শ্রেণীর লোকের কিছু শিক্ষার প্রয়োজন, এই সকল আমাকে বুঝাইয়া৷। বলিলেন। তখন আমি কোথায় আর তিনি কোথায় ! আমি “ কলেজের একটা গরীবের ছেলে, তিনি সহরের একজন লব্ধপ্রতিষ্ঠ চিকিৎসক। আমায় তিরস্কারটা এই ভাবে গ্রহণ। করাতে কি সাধুতারই পরিচয় পাইলাম। সেই তাহার সহিত আমার আত্মীয়তা জন্মিয়া গেল॥ তদবধি আমার বা আমার পরিবারস্থ ‘কাহার ও পীড়ার সংবাদ দিবামাত্র বুক দিয়া আসিন্ধ পড়িাছেন; এবং বিনাভিজিটে দিনের পর দিন আসিয়া চিকিৎসা করিরাছেন। সে উপকারের স্বাণ আমায় অপরিশোধনীয় রহিরাছে।

এরূপ মানুষকে কে শ্রদ্ধাভক্তি না করিরা থাকিতে পারে? অচিরকালের মধ্যে তাহার পসার আবার ফিরিয়া আসিল। তাহার অভুখানের সঙ্গে সঙ্গে হোমিওপেথি ও লোকচক্ষে উঠিয়া পড়িল।

১৮৭০ সালে তিনি কলিকাতা বিশ্ববিস্তালয়ের ফেলো নিযুক্ত হইলেন। প্রথমে তাহাঁকে আর্টফ্যাকটর প্রতিনিধি করিয়া সিণ্ডিকেটে লওয়া হয়। তৎপরে ১৮৭৮ সালে সেনেটের সভ্যগণ তাহাকে ফাকটী অব মেডিসিনের প্রতিনিধিরূপে সিণ্ডিকেটে প্রেরণ করিবার প্রস্তাব করেন। ইহাতে ফ্যাকটী৩৮