পাতা:রামতনু লাহিড়ী ও তৎকালীন বঙ্গসমাজ.djvu/৪০৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৩৪১
ত্রয়োদশ পরিচ্ছেদ।

সময়ে ফরিদপুরে বাস করিতেন। তিনি পরদুঃখ কাতরতার জন্ত বন্ধুবান্ধবের মধ্যে প্রসিদ্ধ ছিলেন। দ্বারকানাখ পিতার পরদুঃখকাতরতা প্রচুরমাত্রায় পাইয়াছিলেন ; কিন্তু বোধ হয় তাহার তেজস্বিনী, মনস্বিনী, ধৰ্ম্মপরায়ণ মাতাই তাহার চরিত্রকে প্রধানরূপে গঠন করিয়াছিলেন। তাহার মাতার দৃঢ়চিত্তত বিষয়ে একটা জনশ্রুতি চলিত আছে। একবার তিনি তীর্থ দর্শনের মানলে জগন্নাথ ক্ষেত্রে যাইবার জন্য উৎসুক হইলেন। তিনি ধনীর কষ্ঠা ছিলেন ; মনে করিলে যান বাহনাদির সাহায্যে নিজ অভিপ্রায় পূর্ণ করিতে পারিতেন ; এবং তাহার পিতৃকুলও সেরূপ সাহায্য করিতে প্রস্তুত ছিলেন । কিন্তু দ্বীরকনাথের মাতার আত্মমর্যাদ জ্ঞান এমনি প্রবল ছিল যে কিছুতেই তাহতে সন্মত হইলেন না । অথচ আত্মীর স্বজনের অকুনর বিনরে সেই তীর্থ যাত্রা প্রত্যাগ করিতেও স্বীকৃত হইলেন না। যথা সময়ে তীর্থযাত্রা করলেন এবং নিজের পদদ্বয়ের সাহায্যে তাহা সমাধা করিলেন। দ্বারকানাথ সেই মাতার সন্তান, তাহতে উত্তরকালে আমরা যে আত্মমর্যাদাজ্ঞান দেখিরছি, তাহা মানুষে সচরাচর দেখা যার না। র্তাহার আত্মমর্য্যাদাতে আঘাত লাগিলে তিনি অবমাননকারীকে জানিতে দিতেন যে সিংহের সহিত তাহার কারবার। সে স্থলে এরূপে জানিতে দেওয়া সম্ভব হইত না সে স্থলে তিনি মনের আবেগে অচেতন হইয়া পড়িতেন।

 সে যাহা হউক, শৈশব গ্রামে গুরুমহাশয়ের পাঠশালে বিস্তাশিক্ষা আরম্ভ করি লন । কিন্তু অল্পদিনের মধ্যেই তাহীর ইংরাজী শিখিবার বাসনা প্রবল হইল। তখন তাহার পিতার কৰ্ম্মস্থান ফরিদপুরে তাহাকে লইয়া যাওয়া হইল । কিন্তু সেখানে তাহার স্বাস্থ্য ভাঙ্গিয় পড়িল । বাধ্য হইয় তাহাকে , আবার মাগুরখণ্ডে ফিরিয়া আনা হইল। এই' অবস্থাতে র্তাহার অতিশয় বাগ্রতা বশতঃ তাহাকে গ্রামের নিকটবৰ্ত্তী কালীপাড়া গ্রামের ইংরাজী স্কুলে ভৰ্ত্তি করিয় দেওয়া হইল। তিনি নানা অসুবিধার মধ্যে সেখানে প্রবেশিক পরীক্ষার শ্রেণী পৰ্য্যন্ত পাঠ করিলেন। কিন্তু সে পরীক্ষাতে উত্তীর্ণ হইতে পারিলেন না। বাধ্য হইয়া কাজ কৰ্ম্মের চেষ্টাতে র্তাহাতে বিব্রত হইতে হইল। এই অবস্থাতে তিনি পর পর তিন স্থানে শিক্ষকতা কার্যে ব্রত ছিলেন ; প্রথম, বিক্রমপুরের অন্তর্গত সোনারং, দ্বিতীয় ফরিদপুরস্থ ওলপুরে, তৃতীয় গোনসিং গ্রামের মাইনর স্কুলে।

 ইহার মধ্যে র্তাহার জীবনে এক মহা পরিবর্তন ঘটিল। তাছার বরংক্রম