পাতা:রামতনু লাহিড়ী ও তৎকালীন বঙ্গসমাজ.djvu/৪১০

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৩৪২
রামতনু লাহিড়ী ও তৎকালীন বঙ্গসমাজ

যখন ১৭ বৎসর তখন একদিন শুনিলেন যে এক হতভাগিনী বিপথগামিনী কুলীন ,কন্তাকে তাহার আত্মীয় স্বজন বিষ প্রয়োগ দ্বারা হত্যা করিয়াছে। এই দারুণু সংবাদ তাহার পরদুঃখকাতর প্রাণে শেলসম বাজিল। তিনি অনুসন্ধান করিয়া জানিলেন কুলীন কন্যাদিগকে এরূপে হত্যা করা বিরল ঘটনা নহে । তখন তাহার অন্তরাত্মা ক্ৰোধে দুঃখে অধীর হইরা গেল ! তিনি মনে মনে প্রতিজ্ঞা করিলেন যে, কুলীন-শ্রেষ্ঠ হইলেও তিনি বহু-বিবাহ রূপ গৰ্হিত কর্য্যে কখনও লিপ্ত হইবেন না। নিশ্চয় জানিতেন যে তাহার এরূপ প্রতিজ্ঞ রক্ষা করার ফল এই হইবে যে তাহার দুই অবিবাহিতা ভগিনীকে চিরকৌমার্য ধারণ করিতে হইবে ; তাহা জানিয়াও তিনি ' নিজ প্রতিজ্ঞা দৃঢ় রাখিবার সংকল্প করিলেন, এবং সে সংকল্প রক্ষা করিতে সমর্থ হইয়াছিলেন ।

 ঐ কুলীন কস্তার হত্যাসংবাদ শ্রবণে কেবল যে বহুবিবাহের প্রতি তিনি জাতক্রোধ হইয়াছিলেন তাহী নহে, তাহার প্রাণ ভারতীয় নারীকুলের দুঃখ দুৰ্গতির বিষয় ভাবিয়া নিরতিশয় বাথিত হুইল । তিনি ভারতীয় নারীগণের অবস্থার উন্নতি বিষয়ে চিন্তু করিতে প্রবৃত্ত হইলেন। ১৮৬৯ সালে যখন তিনি লোনসিং স্কুলে শিক্ষকতা করেন তখন মনের ভাব এইরূপ । সেইভাব লইয়া ঐ সালে তিনি “অবলাবান্ধব” নামে এক সপ্তাঙ্গিক পত্র বাহির করিলেন। কাগজ খানি ঢাকা হইতে প্রকাশিত হইতে লাগিল; এবং স্বপ্রসিদ্ধ ডেপুটী মাজিষ্ট্রেট ও ঢাকা ব্রাহ্মসমাজের অগ্রগণ্য সভ্য অভয়াকুমার দাস মহাশয়ের পুত্র প্রাণকুমার দাস প্রভৃতি কতিপয় উৎসাহী যুবক তাহার সহায় হইলেন। .প্রাণকুমার দাস একবার কলিকাতাতে আসিয়া আমাদের কয়েক জনকে “অবলা বান্ধবে” মধ্যে মধ্যে লিখিবর জন্ত প্রতিজ্ঞাবদ্ধ করিয়া গেলেন। আমরা “অবলাবান্ধব" পড়িয়া অবাক হইতে লাগিলাম। কোন রবর্তী গ্রাম হইতে এ কোন ব্যক্তি নারীজাতির শিক্ষা ও উন্নতি সম্বন্ধে এরূপ উদার মত ব্যক্ত করিতেছেন।

 ক্রমে গাঙ্গুলি ভায়া তার কলিকতাবাসী প্রবন্ধলেখক বন্ধুদিগকে দেখিবার জন্য একবার সহরে আসিলেন। আমরা আমাদের ‘হীরোকে দেখিয়া লইলাম! বন্ধু সমাগমে স্থির হইল যে অবলাবান্ধব কলিকাতায় তুলিয়া আন! হইবে। তদনুসারে ১৮৭০ সালে দ্বারকানাথ অবলাবান্ধব লইয়া কলিকাতায় আসিলেন। আসিয়া তাহার মহা পরিশ্রম আরম্ভ হইল। কলিকাতা আসাতে