পাতা:রামতনু লাহিড়ী ও তৎকালীন বঙ্গসমাজ.djvu/৪৩

এই পাতাটিকে বৈধকরণ করা হয়েছে। পাতাটিতে কোনো প্রকার ভুল পেলে তা ঠিক করুন বা জানান।
১৯
প্রথম পরিচ্ছেদ।

চতুর্থ পুত্র কালীকান্ত অপুত্রক গত হন। তৃতীয় গৌরীকান্ত ও পঞ্চম শম্ভুকান্ত, ইঁহাদের শাখাদ্বয় কৃষ্ণনগরের সন্নিহিত দৌলিয়া ও বাগানবাড়ী নামক স্থানদ্বয়ে অবস্থিত হইয়াছেন। কাশীকান্তের শাখা কৃষ্ণনগর কদমতলাতে বাস করেন। এই জন্য তাঁহারা কদমতলার লাহিড়ী-পরিবার নামে অভিহিত; এবং অপরেরা দৌলিয়া ও বাগানের লাহিড়ী—পরিবার নামে আখ্যাত। গুণধাম গোবিন্দ লাহিড়ীর গুণাবলীর নিদর্শন অপর শাখাদ্বয়েও প্রাপ্ত হওয়া গিয়াছে। তাঁহাদের অনেকের কথা উল্লেখ করিবার প্রয়োজন নাই। এক জনের বিষয় বিশেষভাবে উল্লেখ করিলেই যথেষ্ট হইবে। ইঁহাতে লাহিড়ী বংশের ধর্ম্ম-প্রবণতা আর এক আকারে ফুটিয়াছিল। ইঁহার নাম দ্বারকানাথ লাহিড়ী। ইঁহার জীবনের সংক্ষিপ্ত বিবরণ এই:—

 অনুমান ১৮২৭ কি ১৮২৮ খ্রীষ্টাব্দে দ্বারকানাথ জন্ম হয়। ইনি বাগানের শম্ভুকান্ত লাহিড়ীর পৌত্র ও নীলমণি লাহিড়ীর পুত্র। শৈশবেই ইনি পিতৃহীন হইয়া জননীর সহিত মাতুলালয়ে বাস করিতে থাকেন। পঞ্চদশ বৎসর পর্য্যন্ত বোধ হয় শ্রীপ্রসাদ লাহিড়ীর প্রতিষ্ঠিত স্কুলে সামান্যরূপ বাঙ্গালা ও ইংরাজী শিক্ষা করিয়া থাকিবেন। পঞ্চদশ বৎসর বয়ঃক্রম কালে এরূপ কোন ঘটনা ঘটে, যাহাতে ইঁহার জননী দারুণ মনঃপীড়া প্রাপ্ত হন। জননীর দুঃখ দেখিয়া সেই পঞ্চদশবর্ষীয় বালক এই প্রতিজ্ঞা করিয়া মাতুলালয় হইতে বহির্গত হন, যে নিজে উপার্জ্জন-ক্ষম হইয়া মাতার দুঃখ দূর করিতে না পারিলে আর আত্মীয় স্বজনকে মুখ দেখাইবেন না; বা কাহাকেও নিজের সংবাদ দিবেন না। এই প্রতিজ্ঞা করিয়া কয়েক আনা পয়সা মাত্র পথের সম্বল লইয়া পদব্রজে দুই তিন মাস হাঁটিয়া আগরাতে গিয়া উপস্থিত হইলেন। সেখানে একজন শান্তিপুর-নিবাসী বাঙ্গালী ভদ্রলোক তাঁহার প্রতি কৃপা-পরবশ হইয়া তাঁহাকে স্বীয় ভবনে আশ্রয় দেন; এবং তাঁহার বিদ্যাশিক্ষার বন্দোবস্ত করিয়া দেন। কয়েক বৎসরের মধ্যেই দ্বারকানাথ ইংরাজী বিদ্যাতে পারদর্শী হইয়া সর্ব্বশ্রেষ্ঠ রৌপ্য ও স্বর্ণপদক পারিতোষিক পাইলেন; এবং কালেজ হইতে উত্তীর্ণ হইয়া আগরাতেই একটা উচ্চ বেতনের কর্ম্ম পাইলেন। প্রথম বেতন পাইয়াই জননীকে পত্র লিখিলেন; এবং তাঁহার যাইবার জন্য পাথেয় পাঠাইলেন। ভগ্নহৃদয়া মাতা বহুকাল পরে নিরুদ্দেশ সন্তানের পত্র ও তাঁহার প্রেরিত অর্থ পাইয়া কতই ক্রন্দন করিলেন। ক্রমে জননী আগরাতে উপস্থিত হইলেন। সেখানে দ্বারকানাথ মাতৃসেবা ও গৃহধর্ম্মে প্রবৃত্ত হইলেন। যথাসময়ে তাঁহার