পাতা:রামতনু লাহিড়ী ও তৎকালীন বঙ্গসমাজ.djvu/৫৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৩৩
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

পরিপক্ক হইয়া উঠিয়ছিল। সেই বালকটা তাঁহাকে চুরি করিবার জন্য সৰ্ব্বদ প্ররোচনা করিত। লাহিড়ী মহাশয় বলেন, যে তাহার প্ররোচনাতে তিনি চুরি করিতে শিথিয়াছিলেন । একদিন তাহার জ্যেষ্ঠ কেশবচন্দ্র সন্দেহ করিয়া র্তাহাকে ধরিয়া বসেন ও অনেক তিরস্কার করেন। লাহিড়ী মহাশয় এই ঘটনার অন্ততঃ ষাটি বৎসর পরে তাহার দৈনিক লিপিতে লুিখিয়াছেন—“হায় ! আমি তখন আমার জ্যেষ্ঠের নিকট অপরাধ স্বীকার করিতে সাহসী হই নাই, কেবল কাদিয়াছিলাম।” যিনি ষাট বৎসর পরে স্বকৃত একটী বাল্যস্থলভ” পাপ স্মরণ করিয়া হায় হায় করিতে পারেন, তিনি যে কি ধাতুতে গঠিত ছিলেন, তাহা সকলেই অনুমান করিতে পারেন ।

 বালক রামতনুর ঘোড়া চড়িবার বাতিকটা অতিশয় প্রবল ছিল । • এরূপ অনুমান করা যায়, তখন চতুষ্পাশ্ববৰ্ত্তী গ্রাম ও জনপদ সকল হইতে কখন কখনও লোকে বেতো ঘোড়া চড়িয়া কৃষ্ণনগরে মামলা মোকদ্দমা বা বিষয়কৰ্ম্ম করিতে আসিত। তদ্ভিন্ন কলিকাতার অনুকরণে নুতন ধরণের কতকগুলি ভাড়াটিয়া গাড়ি চলাও আরম্ভ হইয়াছিল। ঐ সকল শকটের ঘোড়া যথেচ্ছভাবে রাজপথের পাশ্বে, বা মাঠে চরিয়া বেড়াইত। বালক রামতনু সমবয়স্ক বন্ধুদলে পরিবেষ্টিত হইয়া ঐ সকল ঘোড়৷ ধরিয়া চড়িতেন। যাহাদের ঘোড়া তাহারা জানিতে পারিলে তাড়া করিত, তখন বালকদল চক্ষের নিমিষে খানাখন্দ পার হইয়া পলায়ন করিত। এই ঘোড়া চড়িবার সখটা এতই প্রবল ছিল, যে র্তাহার সঙ্গীদিগের মধ্যে একটা অধিক বয়স্ক বালক ঘোড়া কিনিবার জন্য এক জনের অনেকগুলি টাকা চুরি করিয়াছিল । তিনি তখন তাহার উৎসাহদাতাদিগের মধ্যে একজন ছিলেন।

 বালক রামতনু যে কেবল ঘোড়া চড়িয়া সঙ্গীদিগের সুহিত আমোদ প্রমোদ করিতেন তাহা নহে। তখন কৃষ্ণনগরের চতুর্দিকে বালকদলের বিহারোপযোগী অনেক উদ্যান ও মনোরম প্রাকৃতিক দৃশ্নাবলী ছিল। রাজপরিবার ও তৎসংস্থঃ পরিবারগণ এই সকল উদ্যানের সত্ত্বাধিকারী ছিলেন । ইহার মধ্যে শ্ৰীবন সৰ্ব্বোপরি উল্লেখ-যোগ্য । এই উদ্যানটী কৃষ্ণনগরের এক ক্রেীশ পূৰ্ব্বদক্ষিণে অঞ্জন নামক নদীর তীরে অবস্থিত। রাজা ঈশ্বরচন্দ্র এই উদ্যান স্থাপন করিয়া এখানে একটা সুরম্য হৰ্ম্ম্য নিৰ্ম্মাণ করেন। তদবধি ইহা কৃষ্ণনগরের একটী আকর্ষণের বস্তু ছিল ।