পাতা:রামতনু লাহিড়ী ও তৎকালীন বঙ্গসমাজ.djvu/৬৫

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৩৯
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদ

হান্ত পরিহাস আমোদ প্রমোদ করতে লাগিলেন। আর একটী বিবরণ এই —“এক রাত্রিতে রাজবাটীতে এক অপূৰ্ব্ব রূপসী ও অসাধারণ সুকণ্ঠাতয়ফাওয়ালীর নৃত্যগীতে সকলেই বিমোহিত হইলেন। কেহ প্রস্তাব করিলেন যে এই রমণী সুন্দর খ্যামটা নাচিতে পারে। তখন সুরাপানে সকলেরই হৃদয় প্রফুল্ল ছিল;, সুতরাং এ প্রস্তাবে দ্বিমত হইল না। ঐ সুন্দরী যখন পেশোয়াজ ছাড়িয়া একখানি কালাপেড়ে স্বক্ষ ধুতি পরিয়া গৃহে প্রবেশ করিল, যেন স্বর্গবিদ্যাধরী অবতীর্ণ হইলেন দর্শকবৃন্দের দুলু ঢুলু নয়নে এইরূপ দৃষ্ট হইল। নিমন্বিত মহাশয়দিগের মধ্যে কি প্রধান, কি বিজ্ঞ, কি পদস্থ, প্রায় সকলেই তাহার নৃত্যে বিমোহিত হইলেন। প্রথমে কয়েক অবিজ্ঞ যুবা আপন আপন চরণ নিজ বশে রাখিতে পারিলেন না। তাহারা ঐ সঙ্গে নৃত্য আরম্ভ করিলেন। প্রাচীন ও পদস্থ একজনও দণ্ডায়মান হইলেন। এক বিজ্ঞবর প্রথমাবধি গম্ভীরভাবে ছিলেন, তাঁহার পদ শেষে অস্থির হইয়া উঠিল। তিনি উক্ত প্রাচীনকে নাচাইবার ছলে আপনি নাচিতে লাগিলেন।”

 যে সমাজে সমাজপতি রাজা বন্ধুগণ-সহ একটা দাসী শ্রেণীস্থ বালিকাকে সুরাপান করাইয়া তাহার সহিত হাস্ত পরিহাস করিতে লজ্জা বোধ করেন না, যে সমাজে সমাজের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তির ভবনে-নিমন্ত্রিত ভদ্রমণ্ডলীর মধ্যে এইরূপ আমোদ চলিতে পারে, সে সমাজের নীতির অবস্থা কিরূপ দাড়ায় তাহা সকলেই অনুমান করিতে পারেন।

 ইহা পরবর্তী ঘটনা হইলেও গিরীশচন্দ্রের সময়ে যে ইহা অপেক্ষ উচ্চতর অবস্থা ছিল না, তাহ বলিতে পারা যায়। রাজসংসারের সম্পৰ্কীয় ও আশ্রিত ব্যক্তিদিগের নীতি এই পুকার হাওয়াতেই বদ্ধিত হইত।

 দ্বিতীয় শ্রেণীর লোকদিগের অনেক বিদেশে বাস করিতেন সুতরাং কৃষ্ণনগরের তদানীন্তন সামাজিক অবস্থার সহিত তাঁহাদের যোগ ছিন্ন না, এজন্য তাঁহাদের বিষয়ে আলোচনা ত্যাগ করা গেল। ষে সকল বিদেশীয় আমলা প্রভৃতি কৰ্ম্মস্থত্রে গোয়াড়ীতে বাস করিতেন, তাহাদের অবস্থা কি ছিল দর্শন করুন। কাৰ্ত্তিকেয় চন্দ্র রায় বলিতেছেন ঃ-“গোয়াড়ীতে কয়েকঘর গোপ মালোগাড়ার ও অন্যান্য নীচজাতির বসতি ছিল। পরে যখন ইংরাজ গবর্ণমেন্ট স্থান প্রশস্ত ও নদীতীরস্থ দেখিয়া ইহাতে বিচারালয় সকল স্থাপন করিলেন, সেই সময় সাহেবেরা গোয়াড়ীর পশ্চিম দিকে ও তাঁহাদের আমল, উকীল ও মোক্তারের ইহার পূর্বদিকে আপন আপন বাসস্থান