পাতা:রামেন্দ্রসুন্দর রচনাসমগ্র প্রথম খণ্ড.djvu/২৮৬

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।

ふb>8 রামেন্দ্রম্বন্দর রচনাসমগ্র গ্রহণ দ্বারা তাহার তোমায় কৃতাৰ্থ করিয়াছেন । পঞ্চাশত সংবৎসর তোমাকে অঙ্কে রাখিয় তোমার খাম জন্মদা তোমাকে স্নেহপীযুষে বৰ্দ্ধন করিয়াছেন ; সেই ভুবনমনোমোহিনীর উপাসনাপরায়ণ সন্তানগণের মুখস্বরূপ বঙ্গীয়-সাহিত্য-পরিষৎ বিশ্বপিতার নিকট তোমার শত্যযুঃ কামনা করিতেছেন। কবিবর! শঙ্কর তোমায় জয়যুক্ত করুন। (বঙ্গদর্শন’, মাঘ ১৩১৮) চট্টগ্রাম সাহিত্য-সম্মিলনে নিবেদন মাননীয় মহাবাজ মণীন্দ্রচন্দ্র নন্দীব আহবানে যখন কাশিমবাজারে বঙ্গীয়-সাহিত্যসম্মিলন আকৃত হয়, তখন উপস্থিত সাহিত্যসেবিগণের অতুবোধে ও অতুমতিক্রমে এই সম্মিলনের উদেশ্ব সম্বন্ধে প্রবন্ধ পাঠের ভাব আমার উপর পডিয়াছিল । আমার বিশেয অনিন্দ এই যে, মুখ্যতঃ সেই উদ্দেশ্য লক্ষ্য করিয়া এই কয় বৎসর এই সাহিত্য-সম্মিলন ক্রমশঃ অগ্রসর হইয়াছেন এবং আমিও সেই উদ্দেশ্য অনুসারে এই সম্মিলনের গঠন ও পবিচালনকার্য্যে আমার ক্ষুদ্র শক্তি যথাসাধ্য অর্পণ করিয়া আসিয়াছি । আজ শারীরিক অবসাণ আমাকে সাহিত্য সম্মিলনে যোগ দিতে দিল না এবং চট্টগ্রামে সমবেত সাহিত্যসেবিগণের সঙ্গলাভে অসমর্থ কবিল। ঘটনাক্রমে বঙ্গসাহিত্যের অনুরক্ত ভক্ত এবং সাহিত্য-সম্মিলনেব প্রাণস্বরূপ মহারাজ মণীন্দ্রচন্দ্রও অদ্যকার সম্মিলনে উপস্থিত হইতে পারেন নাই এবং সম্মিলনের গঠন পরিচালনা কার্য্যে যিনি আমার প্রধান সহায় ছিলেন, সেই ব্যোমকেশ মুস্তফী ও আজ আমারই মত ভগ্নদেহ লইয়া আপনাদের সঙ্গলাভে বঞ্চিত হইয়াছেন। জগন্মাতার ছিন্নাঙ্গ সম্পর্কে যে চট্টগ্রাম প্রদেশ সমস্ত ভারতবাসীর মহাপীঠ, দেবদেব চন্দ্রশেখরের অপ্রসাদ ব্যতীত সেই তীর্থের রজঃ শিরে ধরিবার সুযোগলাভে বঞ্চিত হওয়ার আর কি হেতু থাকিতে পারে ? বিধাতুবিধানের উপর পরিতাপে কাহাব ও অধিকাব নাই ; দৈব অপ্রসাদকে মহাপ্রসাদরূপে শিরোধাৰ্য্য করিয়াই আমার ন্যায় ক্ষুদ্র মানব সাস্তুনালাভে বাধ্য আছে। কিন্তু কতিপয় কারণে আমার ক্ষোভের মাত্রা এত অধিক হইয়াছে যে, তাহ ব্যক্তিগত হইলে “ আমি আপনাদের সম্মুখে উপস্থিত করিতে সাহসী হইতেছি। আপনার আমাকে ক্ষম করিবেন । ভারতের মহাকবি বলিয়াছেন—“যদধ্যাসিতমহঁন্তি তদ্ধি তীৰ্থং প্রচক্ষতে ।” মহৎ লোকের আসনভূমি তীর্থস্বরূপ। বাঙ্গালার সাহিত্যক্ষেত্রে র্যাহারা আমার গুরুস্থানীয় এবং যাহারা আমার সহায় ও সহকারী মিত্রস্থানীয়, সেই মহাশয়গণের পদার্পণে চট্টগ্রাম এই কয় দিনের জন্য তীর্থে পরিণত হইয়াছে। যে সকল কবি ও মনীষী পূর্বে ও পবে চট্টগ্রাম অলস্কৃত করিয়াছেন বা করিতেছেন, তাহাদের নাম উচ্চারণ আমার পক্ষে সম্ভবপর নহে, কিন্তু একটি মাম উচ্চারণের শূহ আমি কিছুতেই দমন করিতে পারিতেছি না। স্বর্গগত কবিবর নবীনচন্দ্র সেনের সম্পর্কলাভে চট্টগ্রাম বাঙ্গালার সাহিত্য-ভক্তদিগের সকলের পক্ষেই তীর্থ