পাতা:লক্ষণ সেন - দুর্গাদাস লাহিড়ী.pdf/৬২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


Qbr লক্ষণ-সেন মঙ্গলময় ; তিনি অবশুই মঙ্গল-বিধান করিবেন। বাবা! — তুমিই তো এ শিক্ষা দিয়াছ ; তবে কেন আবার উতল হও ?” এইরূপ কত কথায়, বালিকা, একবার জলনীকে একবার পিতাকে সত্ত্বনা-দানের চেষ্টা পায় । কিন্তু বালিকার সে সাস্বনা-বাক্যে পিতামাতার প্রাণ প্রবোধ মানিবে কেন ? কন্যার মুখ দেখিয়া, কন্যার কথা শুনিয়া, তাহাদের আকুলিব্যাকুলি অধিকতর বৃদ্ধি পায় । পদ্মাবতী যখন পিতামাতাকে কথায় সাস্তুনা-দান করিতে পারে না, তখন একান্তে সরিয়া যায় ; জগবন্ধুর ধ্যান করে ; মনে মনে প্রার্থনা জানায়,—“দয়াময় ! করুণাসিন্ধু ! আমার পিতামাতার প্রণে শক্তি দেও ! আমি যেন তোমার পাদপদ্মে আশ্রয় পাই। আমার পিতামাতা যেন সন্তুষ্ট মনে তোমার লেবায় আমায় নিয়োগ করিয়া যান । মঙ্গলময় তাহীদের যেন সঙ্কল্প-ভঙ্গ ন} হয় ।” পদ্মাবতীর সদাই এই প্রার্থনা—“জগবন্ধু ! আমায় আশ্রয় দেও ।” সে যখন মন্দিরে দেব-দর্শনে গমন করে, কাদিয়া কাদিয়া বলে,--“প্রভু! চরণে স্থান দেও ” সে যখন মহাসমুদ্রে স্নান করিতে যায়, জলনিধিকে সম্বোধন করিয়া মনে মনে প্রার্থনা জানায়,--“হে অনন্ত ! তোমার অনন্ত বালুকাকণার ন্যায় এই ক্ষুদ্র বালিকাকে চরণে একটু আশ্রয় দিও, প্রভু!" পিতামাতার চিত্ত স্থির হউক, তাহাদের হৃদয়ে দৃঢ়ত। আমুক, পদ্মাবতীর সদাই সেই চেষ্টা—সেই আকাঙ্ক্ষ । জগবন্ধুর সেবায় জীবন পাত করিতে পারিলেই সে ধন্য হয় ।

  • * *