পাতা:লক্ষণ সেন - দুর্গাদাস লাহিড়ী.pdf/৭২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


\ახr· লক্ষণ-সেন একজন অকুচর নবদ্বীপে ফিরিয়া যাইবার আদেশ পাইল । তাহার নিকট রাজ জয়সিংহ একখানি পত্র পাঠাইলেন। পত্রের মৰ্ম্ম এই যে,-“মিথিলা কখনই নবদ্বীপের প্রাধান্ত স্বীকার করিবে না। নবদ্বীপাধিপতি যদি মিথিলার প্রাধান্য পরিত্যাগ করিতে সন্মত হন, তাহা হইলে তিনি বন্দীদিগকে ছাড়িয়া দিতে প্রস্তুত আছেন । তদ্ভিন্ন, মিথিলার উপর নবদ্বীপাধিপতি কোনরূপ প্রাধান্ত রক্ষা করিবার আকাঙ্ক্ষা করিলে, বন্দিগণকে মুক্তি দেওয়া হইবে না। মিথিলায় প্রাধান্ত রক্ষা করিবার জন্য নবদ্বীপাধিপতি যদি সৈন্যদল প্রেরণ করেন, তাহা হইলে, তাহার সৈন্যদল মিথিলার সীমানায় পদার্পণ করিবামাত্র, প্রথমেই বন্দীদিগের শিরচ্ছেদ করা হইবে । তার পর, সীমানা-লঙ্ঘনকারাদিগকে যথাযোগ্য শাস্তি দেওয়া যাইবে ।” নবদ্বীপাধিপতির দুতরূপে যিনি মিথিলায় গমন করিয়াছিলেন, তাহার নাম—বীরসিংহ। বীরসিংহের বয়ঃক্রম—মাত্র স্বাবিংশ বর্ষ। তিনি নবদ্বীপাধিপতির প্রধান সেনাপতি সংগ্রামসিংহের পুত্র । পুত্রকে দৌত্যকাৰ্য্যে প্রেরণে সংগ্রামসিংহের বিশেষ আগ্রহ ছিল । পুত্রের তবিযুৎ উন্নতির পথ প্রশস্ত করিবার অভিপ্রায়ে মহারাজকে অনুরোধ করিয়া তিনি বীরসিংহকে দৌত্যকার্য্যে নিযুক্ত করিয়াছিলেন । পুত্র বীরসিংহকে মিথিলাপ্রেরণের সময় পিতা সংগ্রামসিংহ ভ্ৰমেও বিশ্বাস করেন নাই খে, মিথিলাধিপতি তাহাকে বন্দী করিবেন। মহারাজ লক্ষ্মণসেনের মনেও সে আশঙ্ক আদৌ স্থান পায় নাই। দুত মিথিলায় গমন করিলেই জয়সিংহ বশুত স্বীকার করিবেন— আদেশ-পালনে বাধ্য হইবেন,—সকলেরই এইরূপ বিশ্বাস ছিল ।