পাতা:লক্ষণ সেন - দুর্গাদাস লাহিড়ী.pdf/৯৪

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


જે ૦ লক্ষণ-সেন । দেবের সেরূপ ইচ্ছা নহে। ব্রহ্মচারীর সুকণ্ঠ তাহাকে মুগ্ধ করিয়া রাখিয়াছে। ব্রহ্মচারী পুরুষোত্তম হইতে চলিয়া গেলে র্তাহার মধুর কণ্ঠে হরিগুণানুকীৰ্ত্তন আর শুনিতে পাইবেন না—এই আশঙ্কায়, রাজা আনন্দদেব ব্রহ্মচারীকে সংসারী হইবার জন্য আর অধিক পীড়াপীড়ি করেন নাই। মন্দিরের তত্ত্বাবধায়ক এ সকল বিষয় অবগত ছিলেন। সুতরাং তিনি বালিকার সম্বন্ধে ব্রহ্মচারীর মিলিপ্ত-ভাবই উপলব্ধি করিলেন। -ব্রহ্মচারীর ও পদ্মাবতীর কথাবাৰ্ত্ত শুনিয়া, মন্দিরের তত্ত্বাবধায়ক পদ্মাবতীকে কহিলেন,—“বালিকা ! তোমার পিতামাতা তোমাকে জগবন্ধুর পাদপদ্মে সমর্পণ করিয়া গিয়াছেন। তুমি ব্রহ্মচারীর আশ্রয়ে স্থান পাইবে কিরূপে ? জগন্নাথে যে সকল সামগ্রী অৰ্পিত হয়, সে সকলে আমাদের মহারাজের অধিকার । ব্রহ্মচারী ইচ্ছা করিলেও তোমাকে গ্রহণ করিতে পরিবেন না । বিশেষতঃ, তিনি তোমায় গ্রহণ করিতেও অসম্মত।” পদ্মাবতী কোনক্রমেই ব্রহ্মচারীর সঙ্গ পরিত্যাগ করিতে চাহিল না। পদ্মাবতীর বরাবরই একই কথা । সে পুনঃপুনঃ বল্লিতে লাগিল,—“আমার পিতামত আমাকে র্যাহার চরণে অর্পণ করিয়া গিয়াছেন, আমি তাহারই চরণে আশ্রয় লইব ।” তত্ত্বাবধায়ক রাজকৰ্ম্মচারী বুঝাইলেন,–“ব্ৰহ্মচারী আপনিই আশ্রয়হীন। যে নিরাশ্রয়, সে আবার অপরকে কিরূপে আশ্রয় দিবে ?’ কৰ্ম্মচারী আরও কহিলেন,—“আমাদের রাজা আনন্দদেব বড়ই সজ্জন ব্যক্তি। তোমাকে তিনি যত্নসহকারে প্রতিপালন কৰি বেন।”