পাতা:লুকোচুরি - প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়.pdf/১৬

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

১৬

দারোগার দপ্তর, ১৯৬ সংখ্যা।


 আমি সম্মত হইলাম। বলিলাম, “তাহাই হইবে। আপনারা উভয়েই যাইবেন। আপনার স্ত্রী আমার অন্দরে গিয়া বসিবেন।”

 এই বলিয়া আমি বাহিরে আসিয়া গাড়ীতে আরোহণ করিলাম। অনাথনাথ কোচমানকে পূর্ব্বেই ভাড়া দিয়া রাখিয়াছিলেন।


তৃতীয় পরিচ্ছেদ।

◇◇◇◇◇◇

 প্রাতঃকালে প্রকৃতির যে মনোহর মূর্ত্তি দেখিয়াছিলাম, অনাথনাথের বাড়ী হইতে বাহির হইয়া ঠিক তাহার বিপরীত মূর্ত্তি অবলোকন করিলাম। প্রখর রৌদ্রজনিত ভয়ানক উত্তাপ, প্রজ্জ্বলিত অগ্নি-শিখা-সম উত্তপ্তপবনের উচ্ছ্বাস, জীবগণের অসহ্য কষ্ট দেখিলে স্পষ্টই অনুভূত হয় যে, প্রকৃতি এই সময়ে রুদ্রমূর্ত্তি ধারণ করিয়াছে,—জীব-সংহারে নিযুক্ত হইয়াছে। প্রকৃতির এই মূর্ত্তি জীবমাত্রেরই ভয়াবহ।

 যখন আমি থানায় আসিয়া পঁহুছিলাম, তখন বেলা প্রায় এগারটা। স্নানাহার শেষ করিয়া এক নিভৃত স্থানে বসিয়া সেই কাগজখানি দেখিতে লাগিলাম। কাগজখানির একটী কোণে ‘ওঁ’ অতি ক্ষুদ্রাক্ষরে লেখা। তাহারই ঠিক বিপরীত দিকে সেই শূকর চিহ্ন। মধ্যে সেই লেখা। সম্ভবতঃ কাহারও স্বাক্ষর নাই।

 ওঁকার শব্দ কাগজখানির এককোণে লেখা রহিয়াছে দেখিয়া আমি ভাবিলাম, পত্র-লেখক নিশ্চয়ই হিন্দু কিন্তু শূকর হিন্দুদিগের অস্পৃশ্য জন্তু। হিন্দুগণ কাগজপত্রে শূকর-মুর্ত্তি অঙ্কিত করেন না।