পাতা:লেফ্‌টেন্যাণ্ট সুরেশ বিশ্বাস.djvu/১০৬

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৮২
লেফটেন্যাণ্ট সুরেশ বিশ্বাস

নহেন। কিরূপে দেশ বিদেশ ভ্রমণ করিবেন, ইহাই তাহার প্রাণের একান্ত আকাঙ্খা, সর্বদা এই ইচ্ছাই তাহার মস্তিষ্কে ঘুর্ণায়মান, পড়াশোনা করিবে কে? আসটন সাহেব ইহা নিতেন, তবুও তিনি সুরেশকে ভাল বাসিতেন ও আদর যত্ন করিতেন। তিনি সুরেশকে কি ভাবে দেখিতেন, তাহা নিম্ন লিখিত পত্রখানি পাঠ করিলেই বুঝতে পারা যাইবে। আসন সাহেব সুরেশের ভাইকে এই পত্রখানি দিয়া ফাদার লাফোঁ সাহেবের নিকট পাঠাইয়া দিয়াছিলেন,—

 “ইনি বাবু সুরেশচন্দ্র বিশ্বাসের ভ্রাতা। সুরেশ আমাদের ছাত্র এবং প্রায় ২১ বৎসর হইল খৃষ্ট ধর্ম অবলম্বন করিয়াছিলেন। আমি তাহাকে বড় ভাল বাসিতাম এবং আমাদের পরিবারে তিনি ছেলের মত ছিলেন। কিন্তু কিয়দ্দিন পরে তাঁহার মন বড়ই চঞ্চল হইল। বিলাত দেখিবার জন্য তিনি পাগল হইলেন। বি, আই ষ্টিমারে সহকারি স্টুয়ার্ড হইয়া তিনি বিলাত, গিয়াছিলেন। সেখানে তিনি আমার পিতা মাতার সঙ্গে দেখা করেন, তাঁহারা তাহাকে বিশেষ যত্ন করেন। বিলাতে নানা কষ্ট পাইয়া অবশেষে তিনি জামরাক সাহেবের সার্কাসে চাকরি পান; এবং শীঘ্রই তাহার দলে সিংহের সহিত খেলা করিতে আরম্ভ করেন। এইরূপে এই দলের সহিত তিনি ইয়োরোপের প্রায় সকল সহরে গিয়াছিলেন। এইরূপে নানা স্থানে ঘুরিয়া তিনি ব্রেজিলে উপস্থিত হন। এদেশে নানা চাকুরি করিয়া অবশেষে ব্রেজিল দেশীয় সৈন্যদলে প্রবিষ্ট হন। এক্ষণে উন্নতি লাভ করিয়া লেফটেনেণ্ট হইয়াছেন।