পাতা:লেফ্‌টেন্যাণ্ট সুরেশ বিশ্বাস.djvu/৪

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৵৹
ভূমিকা

 এখন একটি কথা, এমন সৌভাগ্যবান্‌ কয় জন,—যাঁহারা অনন্তকাল অসংখ্য অশান্ত লোকের হৃদয়ে শান্তিদান করিতে পারেন—যাঁহাদের কীর্ত্তিকাহিনী অবসন্ন প্রাণে উৎসাহের অনলশিখা জ্বালাইয়া দেয়।

 এই হতভাগ্য দেশে বর্ত্তমানকালে সেরূপ জীবনী অধিক নাই বটে, কিন্তু বিরল বলিয়াই দুই একটি যাহা দেখিতে পাই, তাহাই অধিক আদরের ধন। দরিত্রের সম্বল বহুমূল্য না হইলেও সমধিক প্রিয়।

 এক জন কপর্দ্দক শুন্য নিতান্ত নিঃসম্বল বঙ্গবাসী, যাঁহার পরিধানে দ্বিতীয় বস্ত্রমাত্র ছিল না—বিদেশে অপরিচিত মণ্ডলীর মধ্যে আপন অসাধারণ ক্ষমতাগুণে কিরূপে সৈনিক জীবনে গণ্যমান্য হইয়াছেন, যাঁহার অপূর্ব্ব বীরত্বে ব্রেজিলবাসী মুগ্ধ—শৌর্য্যবীর্য্যে যিনি জগতের বীরেন্দ্র সমাজের বরণীয়;—যাঁহার কার্য্যে মেকলে প্রমুখ বাঙালীবিদ্বেষীর বাঙালীর ভীরুতাপবাদ অমূলক অতীত কাহিনীর মধ্যে দাঁড়াইয়াছে। টাইম্‌সের ন্যায় রক্ষণশীল সম্প্রদায়ের মুখপত্রও যাঁহার উল্লেখ করিয়া বলিয়াছেন,—যে দেশে একই সময়ে সুরেশচন্দ্র বিশ্বাস, জগদীশ বসু ও অতুলচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় জন্মিতে পারে, সে জাতিকে অবজ্ঞা করা যাইতে পারে না, সেই বঙ্গগৌরব সুরেশচন্দ্রের বিস্তৃত জীবনী বঙ্গবাসী মাত্রেরই সমাদরের সামগ্রী হইবে, সন্দেহ নাই।