পাতা:লেফ্‌টেন্যাণ্ট সুরেশ বিশ্বাস.djvu/৭০

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।
৪৬
শিকার ও সুরেশ।

গিয়াছিল, এক্ষণে ছিপ স্কন্ধে গৃহে ফিরিতেছিল। হটাৎ নিকটে বন্দুকের শব্দ শুনিয়া বালকগণ বালসুলভ কৌতুহলের বশবর্ত্তী হইয়া সেইদিকে ছুটিয়া আসিল। সাহেবেরা তাহাদিগকে দেখিলেন, ক্রোধান্ধ বরাহ যে এখনই তাহাদের খণ্ড খণ্ড করিয়া ফেলিবে তাহা তাঁহারা বুঝিলেন। তাঁহারা হস্ত নাড়িয়া, চীৎকার করিয়া তাহাদিগকে পলাইতে বলিতে লাগিলেন, কিন্তু বালকগণ তাঁঁহারা কি বলিতেছেন বুঝিতে পারিল না। প্রথমে বরাহের প্রতি সুরেশেরই দৃষ্টি পড়িল। তিনি তখন তাঁহাদের বিপদ বুঝিলেন, কিন্তু ভয় কখনও সুরেশের হৃদয়ে স্থান পাইত না। এক্ষণে উন্মত্ত বরাহ দেখিয়া ভয় পাওয়া দূরে থাকুক, সুরেশের হৃদয় আনন্দে আপ্লুত হইল। তিনি যে বরাহ শিকার দেখিতে পাইবেন ইহা ভাবিয়া আনন্দে বিভোর হইলেন, তিনি পলাইবেন না, তাঁহার হৃদয়ে ভয় নাই, তবে তিনি সঙ্গীদ্বয়কে পলাইতে বলিয়া নিজে ছিপছস্তে বরাহের দিকে অগ্রসর হইলেন। দেখিতে দেখিতে মুখে গ্যাঁজলা তুলিতে তুলিতে ভীষণশব্দ করিতে করিতে বরাহ সুরেশের নিকটস্থ হইল। বরাহের পশ্চাতেই কুকুরগণ, তৎপশ্চাতেই সাহেবগণ বন্দুকহস্তে প্রস্তুত। তাঁহারা তখনও সুরেশকে পলাইতে চীৎকার করিয়া অনুরোধ করিতেছেন; পাছে গুলি সুরেশের গায় লাগে এই ভয়ে তাঁহারা বন্দুক ছুড়িতে পারিতেছেন না। অথচ বালককে রক্ষা করিবারও আর উপায় নাই, বরাহ আসিয়া সুরেশের উপর পড়িল। তাহার মুখ হইতে নির্গত গ্যাঁজলায় সুরেশের সর্ব্বাঙ্গ আপ্লুত হইল; তাহার চক্ষু হইতে বালকের প্রতি যেন অগ্নিস্ফুলিঙ্গ নির্গত হইতে লাগিল; সে তাহার প্রথম দন্তে বালকের দেহ খণ্ড খণ্ড করিবার জন্য মস্তক অবনত করিল;