প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (অষ্টম সম্ভার).djvu/১২৪

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ যোগ্য বিবেচনা না করিয়া, পরের চরণে তাহার মত আত্মবলিদানে অজ্ঞাতে শুধু র্তাহারই সাধন করা হয়—মানুষ জীবন্মুক্ত হয়। লোকে হয়ত পাগল বলে, আমিও ত পূৰ্ব্বে কত বলিয়াছি—কিন্তু তখন বুঝি নাই যে, এরূপ পাগল জগতে সচরাচর মিলে না ; এরূপ পাগল সাজিতে পারলেও এ তুচ্ছ জীবনের অনেকটা কাজ হয়। মুরেন্দ্রনাথ চলিয়া গেল, কবাট বন্ধ করিয়া মালতী ভূমে লুটাইয়া পড়িল, কত যে কাদিল তাহ বলিব না ; বুঝি সে ভাবিয়া দেখিতেছিল, বাল্যকালের সে ভালবাসা আর এ ভালবাসায় কত প্রভেদ ; মালতী আপন হারাইয়া ভালবাসিয়াছে, তাহার উপর গভীর কৃতজ্ঞতাও মিশিয়াছে । ছাই নিজের স্বখেচ্ছা ? তাহার বোধ হইল তাহার জন্য হাসিতে হাসিতে সে নিজের প্রাণটাও দিতে পারে । মালতী বলিতে লাগিল, প্রাণাধিক তুমি—তোমার এক গাছি কেশের জন্য মরিতে পারি, তুমি আমার জন্য কলঙ্কিত হুইবে । শুধু আমার জন্য পাঁচজনে পাচ কথা বপিবে—তাহা তুমি সহিবে ? আমি অজ্ঞাতকুলশীল, কেহ আমাকে জানে না, কেহ আমাকে চিনে না—আমার লজ্জা নাই, কিন্তু তুমি মহৎ—তোমার কলঙ্ক, তোমার লজ্জার কথা জগং-মৃদ্ধ ছড়াইয়া পড়িবে। লোকে বলিবে, তুমি বেখা বিবাহ করিয়াছে, সমাজে তুমি হীন হইবে, মৰ্ম্মপীড়া অনুভব করিবে, আমি তাহা হইতে দিব না। ঘাড় নাড়িয়া মালতী কহিল, তাহা হুইবে না। এ বিবাহ কিছুতেই ঘটিতে দিব না । মালতী স্থির হইয়া উঠিয়া বসিল, অশ্র মুছিয়া যুক্তকরে কহিল, ঠাকুর, তুমি জান, এ-জীবনে যত পাপ, যত অপরাধ করিয়াছি, কিন্তু সেদিনে ভুলিও না । জগতে আমার আর স্থান নাই, কিন্তু যদি কখনও সেদিন হয়, যদি কখন স্বামিস্নেহ হারাইতে হয়—সেদিন তুমি আমাকে লইও—পতিত হইলেও চরণে স্থান দিও ! সে-রত্রের মত মালতী সেইখানেই পড়িয়া রহিল। পরদিন হইল, কিন্তু স্বরেন্দ্রনাথ আসিলেন না। সমস্তদিন মালতী পথ চাহিয়া বসিয়া রহিল। অনেক রাত্রে স্বরেন্দ্রনাথ আসিলেন, তাহার মুখ অপেক্ষাকৃত মলিন ও ক্লিষ্ট দেখিয়া মালতী কিছু শঙ্কিত হইল। কিন্তু কক্ষে প্রবেশ করিয়াই তিনি হাসিয়া বলিলেন, মালতী, সারাদিন বুঝি পথ চেয়ে আছ ? রক্তিম-মুখে মালতী নিরুত্তর রহিল। কি করি বল ? একদিনের জন্যও ত মকদ্দমা মেটে না । যার যত আছে, কষ্টও তার ততখানি আছে । মালতী বলিল, মকদ্দমা কর কেন ? স্বরেন্দ্রনাথ হা সলেন, বলিলেন, করি কেন ? তা পরে বুঝবে। আগে Y S 8