প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (অষ্টম সম্ভার).djvu/১৩৭

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শুভদ হেলিয়া দুলিয়া একেবারে মালতীয় সম্মুখে আসিয়া দাড়াইলেন। পোষাক-পরিচ্ছদ দেখিয়া মালতী হাসিয়া বলিল, আজ আবার এ কি ? কি বল দেখি ? * তা জানি না । স্বরেন্দ্রনাথ কৃত্রিম গম্ভীর হইয়া বললেন, তুমি পূজা কর ? করি । তবে তোমার বাড়িতে নিশ্চয়ই চন্দন আছে ; চন্দন এনে আমাকে সাজিয়ে দাও— আজ আমার বিবাহ ! কার সঙ্গে ? আগে সাজাও, তার পরে শুনে । মালতী নীচে হইতে চন্দন ঘষিয়া আনিয়! বেশ করিয়া সাজাইয়া বলিল, এখন বল ! তা এখনো বুঝতে পার নি! - তাহার পর গলদেশ হইতে পুপমালা খুলিয়া একটির পর একটি করিয়া তাহাকে পরাইলেন, মখমল বাক্স হইতে নানাবিধ রত্নজড়িত অলঙ্কার বাহির করিয়া যথাস্থানে যথাক্রমে নিবেশ করিলেন-মালতী জন্মে কখন সেই রূপ দেখে নাই, বিস্মিত হইয়া দেখিতে লাগিল—সব শেষ করিয়া মুখচুম্বন করিয়া বলিলেন, তোমাকে বিবাহ করলাম, এতদিনে তুমি আমার স্ত্রী হলে ; আর কোথাও পালাতে পারবে না-যে মালা আজ পরালাম, জন্ম-জন্মস্তরে তা আর খুলতে পারবে না । উভয়ের চক্ষেই জল আসিল, উভয়েই কিছুক্ষণ ধরিয়া কথা কহিতে পারিলেন না। তাহার পর অশ্রু মুছাইয়া স্বরেন্দ্রনাথ বললেন, এখন বাড়ি চল--আপনার সংসার আপনি বুঝে নাও—আশীৰ্ব্বাদ করি এ-জীবনে চিরমুখী হও । মালতী প্রণাম করিয়া পুনৰ্ব্বার নিকটে উপবেশন করল । চক্ষের জল আজ তাহার বড় বাড়িয়া উঠিয়াছে। শতবার মুছিল, শতবার চক্ষু তিতিয়া উঠিল— কিছুতেই নিবৃত্ত হইতেছে না। স্বরেন্দ্রনাথ তাহা বুঝিয়া বলিলেন, মালতী, আজ পিতা-মাতার কথা মনে হচ্ছে ? মালতী ঘাড় নাড়িয়া বলিল, ই । যা ইচ্ছা ছিল তাতে তুমি নিজেই বাদ সাধলে। মনে করেছিলাম, আর এমন করে থাকব না, তোমাকে যখন পেয়েছি তখন প্রকাপ্তভাবে বিবাহ করব, আর একবার সংসারী হ’ব, তোমার পিতামাতাকে এখানে মানব-লোকে তখন যাই বলুক না কেন—আমি নিজে স্বর্থী হব। দীর্ঘশ্বাস ফেলিয়া বলিলেন, সে আশা এখন হুয়াশ । ১২৭